খালেদাসহ ৪ আসামির ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ‍॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

0
23

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৫ নম্বর অস্থায়ী বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত গতকাল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪ আসামির ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাস জেল দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে এ রায় দেন। এ মামলায় আরো ৩ আসামির ৭ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। তারা হলেন-খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান। তাদের প্রত্যেকের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকাল খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারকাজ শুরু করেন আদালত। বেলা প্রায় সাড়ে এগারটায় রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলার মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে কারাগার থেকে আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও জিয়াউল ইসলাম মুন্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আদালতে আসেননি। অপর আসামি হারিছ চৌধুরী পলাতক।
গত ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ জজ আদালতে প্রবেশ করার সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আসামি পক্ষের আবেদন খারিজ হওয়ায় রায় হতে আইনগত কোনো বাধা নেই। দুদকের আইনজীবী আরও বলেন, কারাগারে থাকাবস্থায় চ্যারিটেবল মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ৯ মাসে তিনি একবার আদালতে এসেছেন। তিনি মামলার শুনানিতে আসবেন না বলে একাধিকবার বলেছেন যা জেল কাস্টডিতে লেখা আছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীদের সময় দেওয়ার পরেও যুক্তিতর্কে উপস্থিত হননি। এজন্য বিচারক এ রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দেখা গেলেও আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবীকে দেখা যায়নি। অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদন্ড দেন আদালত। একই মামলায় খালেদার ছেলে তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদন্ড হয়। ওই মামলায় গত ৮ এপ্রিল থেকে কারাবন্দী খালেদা জিয়া। দুই মামলার সাজা আলাদাভাবে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। গতকাল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৪ আসামির ৭ বছরের সাজা দেন আদালত। রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, দুই মামলায় খালেদা জিয়া ১২ বছর দন্ডত হলেন। দুটি মামলার রায় আলাদাভাবে কার্যকর হবে। যেহেতু তিনি একটি মামলায় জেল খাটছেন এটি শেষ হলে অন্যটি কার্যকর হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here