তফসিলের আগেই সংলাপ ‍॥ ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসবে আওয়ামী লীগ

0
29

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সরকার ও প্রধান বিরোধীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রত্যাশিত সংলাপ হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন সকল দলের অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এই সংলাপ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর কন্যার দরজা কারও জন্য বন্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, আমরা সংলাপে বসতে রাজি। আমাদের নেত্রী ঐক্যফ্রন্টের সাথে বসতে রাজি এবং তাদের সঙ্গে সংলাপে বসব। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগেই হবে সংলাপ।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসীর জন্য প্লিজেন্ট সারপ্রাইজ দেব, যা সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির সুবাতাস বয়ে দেবে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নেত্রী আমাদের নিয়ে একটি অনির্ধারিত বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আমাদের নেত্রী ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের প্রস্তাবে রাজি এবং তাদের সঙ্গে সংলাপে বসব।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আমাদের দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ তা গ্রহণ করেছিলেন। চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা সংলাপ করতে চেয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে সংলাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংলাপের আহবান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের দেয়া চিঠিতে ড. হোসেন লিখেছিলেন, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সে লক্ষ্যে আপনার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী না করে তিনি তার চিঠিতে লিখেছেন, নেতিবাচক রুগ্ন রাজনীতি কিভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, কারও চাপের মুখে কিংবা নতিস্বীকার করে নয়, আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে ডাকিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপ করতে চান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে রাজি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। খুব শিগগিরই আমরা সময়, স্থান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তাদের জানিয়ে দেব। এটা অনতিবিলম্বে জানিয়ে দেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংলাপ তফসিলের আগেই হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার দাবিগুলো মানা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়, আলোচনা যখন হবে, আলোচনার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করুন। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার আগেই এ সংলাপ হবে। এর ধারাবাহিকতায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারাসহ আরো কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনুরূপ সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবি তুলে ধরবে। সংবিধান বাহির্ভূত কোন দাবি মেনে নিতে সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হবে। তবে অন্যান্য দাবি বিশেষ করে লেভেল প্লেয়িং কিন্তু নিশ্চিত করা তফসিল ঘোষণার পর তালিকাভুক্ত আসামী ছাড়া রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানি না করার কথা বলা হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন বলে সরকারি দল এ ব্যাপারে আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা বলবেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here