ফখরুল বলেছেন ফরমায়েশী রায়

0
33

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪ আসামির ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাস জেল দিয়েছেন আদালত। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে এর প্রতিবাদ সারাদেশে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই মামলায় বিচারকার্য একেবারে একতরফাভাবে চলেছে। তিনি অসুস্থ হওয়ায় আদালতে আসতে পারেননি। ফলে কারাগারে তার জন্য আদালত স্থাপন করা হয়। তারপর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই বিচার কাজ চালিয়ে যায়। এখনও তিনি হাসপাতালে আছেন। অসুস্থ অবস্থায় রায় দেয়া আইনবিরোধী।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং তাকে রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ ফরমায়েশি রায়। সরকার যা বলছেন আদালতে তার প্রতিফলন হয়েছে। আমরা রায় প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি বলেন,  সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকার টিকে আছে। তারা আরেকটি অবৈধ ও একতরফা নির্বাচন দিতে চায়। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এই রায়। এই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। কিন্তু জনগণ তা মেনে নিবে না। ফখরুল বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চড়ে সারা দেশে ভোট চাচ্ছেন, অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখছে। এই অবস্থায় কখনো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এই রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় বিএনপি। আজ সারা দেশের মহানগর জেলা শহরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সবাইকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহŸান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, দেশের সব জেলা ও মহানগরে এবং রাজধানী ঢাকার থানায় থানায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬ মামলার মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কারাগার থেকে আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও জিয়াউল ইসলাম মুন্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আদালতে আসেননি। অপর আসামি হারিছ চৌধুরী পলাতক।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here