৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই: ইসি

0
321

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, সবদিক বিবেচনা করে নির্বাচন  কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর পেছানো হবে না। ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আওয়ামী লীগের জোটে জাতীয় পার্টি ও বিকল্প ধারাও নেই। তবে জাতীয় পার্টি (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরটা আছে। এরশাদেরটা নেই। সচিব বলেন, ঐক্যজোটের তিন সপ্তাহ নির্বাচন পেছানোর দাবি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ৩০ ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন পেছানোর ইসির কাছে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তব সম্মত না হওয়ায় নির্বাচন পেছানের আর কোনো সুযোগ নেই বলে  নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তিনি বলেন, সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশারের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সকাল ১১টা থেকে ১২ পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিব বলেন, গতকাল ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কমিশনের নিকট এসে বেশকিছু দাবি উপস্থাপন করেছে। সেজন্য আজকে নির্বাচন কমিশন তাদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করেছে এবং নিজেদের ভেতরে বৈঠক করেছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় আছে। যা হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজগুলো করতে হবে। যেমন যদি পুননির্বাচন করতে হয়, উপনির্বাচন করতে হয়, নির্বাচনে অনিয়ম হলে তদন্ত করা, গেজেট প্রকাশ করা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ইত্যাদি। তিনি বলেন, এছাড়া বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়ে থাকেন এবং লক্ষাধিক আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকে। সবদিক বিবেচনা করে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিব বলেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক নয়, আমরা এদেশের নাগরিক যে ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটার তাদের বিষয়গুলো আগে বিবেচনা করব। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সব সময় আমরা স্বাগত জানাই। সেনাবাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, সকালে আমি বলেছিলাম, ২ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেনাবাহিনী নামবে। আসলে আমি বিষয়টি বুঝতে পেয়েছিলাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীর জন্য ১০ দিন আগে থেকে তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন। তবে নির্বাচন কবে কখন কীভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঐক্যফ্রন্ট একটি দাবি করছে, সরকার যেভাবে বলছে আপনারা সেভাবেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছেন-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করতে পারে। অন্য কারো সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন কখনও গ্রহণ করেনি। তবে নির্বাচন কমিশনের অংশীজন রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন বিষযে পরামর্শ দিতে পারে। প্রসঙ্গত, পুননির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট ৩০ ডিসেম্বর।

Share on Facebook