অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন জটিলতা ভোটে প্রভাব না ফেলার ব্যাপারে সতর্ক সরকার৬৫ সালে ও পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেকেই বাংলাদেশে তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি, বিষয় সম্পদ ফেলে রেখে যান। অনেকে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেন। তাদের উত্তরাধিকাররা এই বিষয় সম্পদ ফিরে পেতে চাচ্ছেন। সরকার যে আইন করেছে তাতে বৈধ উত্তরাধিকারগণ এসব বিষয় সম্পদ ফেরত পাবেন। এ পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক আবেদন পড়েছে ট্রাইব্যুনালে। নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার।

0
203

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্পিত সম্পত্তি ও প্রত্যার্পন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা যাতে ভোটের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে না পারে তারজন্য নানমুখী তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার ও সরকারি দল। সংখ্যা লঘু ধর্মাবম্বীদের মধ্যে যে আস্থা প্রতিষ্ঠার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে যে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন এই সরকারই করেছে। প্রত্যার্পন প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবেন। তবে আর একটু সময় লাগবে। সরকারের আগামী মেয়াদের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মাধ্যমে। অপরদিকে সমাজের প্রভাবশালী কিছু মহল এ নিয়ে সরকার বিরোধী প্রচারনাও চালাচ্ছে।  অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পনের কাজটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর হলেও সরকার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পাদন করেছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নতুন করে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল দ্রুততার সাথে মামলা নিস্পত্তি করতে পারছেনা আইনগত জটিলতার কারনে। জেলা প্রশাসন থেকে আপত্তি ও সমস্যার কথা  জানান হয়েছে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগকে। তারা বিষয়টি  ভূমি মন্ত্রনালয় ও আইন মন্ত্রনালয়ের গোচরিভূত করেন। হাইকোর্টে  মামলার  নিস্পত্তি হলেও ভূমি মন্ত্রনালয় লিভ টু আপিল করলে প্রত্যার্পন প্রক্রিয়া থেমে যায়। সম্প্রতি আইন মন্ত্রনালয় থেকে বিষয়টি আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া থাকা ও মহল বিশেষ যাতে উদ্যেশ্য মূলক প্রচারণা চালানোর সুযোগ না পায় সেজন্যই দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি  সামাজিকভাবেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
৬৫সালে ও পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেকেই বাংলাদেশে তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি, বিষয় সম্পদ ফেলে রেখে যান। অনেকে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে  দেন। তাদের উত্তরাধিকাররা এই বিষয় সম্পদ ফিরে পেতে চাচ্ছেন। সরকার যে আইন করেছে তাতে বৈধ উত্তরাধিকারগন এসব বিষয় সম্পদ ফেরত পাবেন। এ পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক আবেদন পড়েছে ট্রাইব্যুনালে। নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার। এর  পিছনেও আইনগত সমস্যা রয়েছে। ক্রয়মূল্যে মালিক ও ভোগদখলকারিরা মূল মালিকেরা উত্তরাধিকার দাবি করে সম্পত্তি ফেরত চাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও  তারা আইনের যথাযথ প্রতিপালন করছেন না।  আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার দাবিদারদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ, ৭০এর নির্বাচন ও তার পরবর্তী জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে নাম ভোটার তালিকাভূক্ত থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকারীরা এই শর্ত পূরন করেননি বলে আইনগতভাবে প্রত্যার্পন করা সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের স্থলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সনদ ও সংসদ সদস্যের সুপারিশ দেখানো হচ্ছে। ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবিদার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই দাবির স্বপক্ষে প্রামান্য দলিলপত্র দেখাতে পারছে না। ষ্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলে প্রকৃত উত্তরাধিকার দাবিদার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে যেমনি অনেক ভোগদখলকারি মুসলমান সম্প্রদায়ের  মধ্যেও বৈরি প্রতিক্রিয়া হবে। এ আশঙ্কায় সরকারি মহল আইনগতভাবেই এর নিষ্পত্তিতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। হিন্দু-বৈাদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে জোর দাবি ও অনুরোধ আসায় জটিলতা না বাড়িয়ে ও সময়ক্ষেপন না করে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে।নির্বাচনের কিছুদিন পরই আইনী প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে প্রত্যার্পনের কাজ হবে বলে জানা গেছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here