নাম বললে কাজ পাবেন না স্বস্তিকা!

0
9

 বিনোদন ডেস্ক : ঠোঁটকাটা মানুষ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী তিনি। আবেদনময় সব চরিত্রে অভিনয় এবং বেফাঁস মন্তব্যের কারণে থাকেন খবরের শিরোনামে। টালিউডে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এবার বের হলেন বাইরে। কাজ করতে যাচ্ছেন একটি মারাঠি ছবিতে। বাবাকে দেওয়া প্রতিজ্ঞা ভুলে তিনি মুখ খুলেছেন #মি টু নিয়ে। নিজের স্বভাবমতো বলেই বসেছেন, টালিউডে কেন #মি টু নিয়ে কোনো কথা হয় না। প্রশ্ন: হলিউড, বলিউডের মতো টালিউডে #মি টুর আন্দোলন শুরু হয়নি। এমনকি একটি অভিযোগও ওঠেনি। এ থেকে এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে কী ধারণা করে নেওয়া যায়? উত্তর: (উচ্চ স্বরে হাসি) উত্তরটা দিতে পারলে তো ভালোই হতো। কিন্তু আমি বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, এ নিয়ে কোনো কথা বলব না (হাসি)। প্রশ্ন: আপনি সেখানে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন। কাজের জন্য জায়গাটাকে আপনার নিরাপদ বলে মনে হয়? উত্তর: প্রশ্নটা আমাকে হাসাল (হাসি)। হাসতে হাসতে আমার পেট ফেটে যাওয়ার অবস্থা হচ্ছে। আচ্ছা বলছি। এটা একটা ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রি। আপনি যদি টালিউডের প্রযোজকদের একটা তালিকা করতে চান, হাতে গুনে পাবেন দুই থেকে তিনজনকে। যদি বিখ্যাত পরিচালক খুঁজতে চান, পাবেন চার থেকে পাঁচটি নাম। ছবিতে অনেক চরিত্র রাখতে চাইলে অভিনয়শিল্পী সংকটে পড়ে যাবেন। সব সময়ই দুই–তিনজনের মধ্য থেকে বেছে নিতে হয়, হোক সেটা প্রযোজক বা পরিচালক। এখন #মি টু নিয়ে কথা বলতে হলে তো তাদের কারও নামই বলতে হবে? তখন কী করব? নাম বললে আর কাজ করতে হবে না, বসে থাকতে হবে। যার নাম বলবেন, সে আপনাকে আর কাজে নেবে না। অন্যরাও নেবে না। ভাববে, পরে যদি তাদের নাম বলে দেন। লোকই আছে দুজন, একজনের নাম বললে পরে আপনার কী অবস্থা হবে বলুন? সুতরাং নাম বললে কাজ পাবেন না। (বিরতি নিয়ে) এখানে এত কমসংখ্যক লোক কাজ করে যে একে আপনি বলিউডের সঙ্গে মেলাতে পারবেন না। সেটা হোক প্রযোজক, পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থার ক্ষেত্রে। এসব কারণেই অনেক কিছু হয় না এখানে। এখানে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তারা চেপে যায়। সেখানে সম্পর্কটা হয়ে যায় দেওয়া-নেওয়ার। আমি মনে করি, #মি টু আন্দোলনটা সেই জায়গার, যেখানে মানুষ এসব মেনে নেয় না এবং মোকাবিলা করতে চায়। একবার যদি মুখ বুজে সুবিধা নিতে শুরু করেন, তাহলে আর #মি টু বলে চেঁচানোর সুযোগ থাকে না।স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: স্বস্তিকার ফেসবুক থেকে প্রশ্ন: আপনি কাছ থেকে জিনিসগুলো দেখেছেন… উত্তর: লোকে আমাকে এসব জিজ্ঞেস করার সাহসই পায় না। মুখ যদি খুলতেই হয়, সব বলে দিতে একমুহূর্ত দেরি করব না। তাৎক্ষণিকভাবে সব বলে দেব। আগে যেটা হয়েছে, অনেকেই আমাকে বোঝাতে এসেছিল যে যদি কফি খেতে না যাই, নৈশভোজে না যাই, তাহলে আমাকে তো কাজ দেবে না। আমি সরাসরি বলেছি, তোমাকে… (প্রকাশ–অযোগ্য গালি)। আমার ওই কাজের দরকার নেই। আপনি যদি যোগ্য হন, আপনি সহজ পথ ধরে এগোবেন না কেন? হয়তো সময় একটু বেশি লাগবে। কিন্তু আপনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছে যাবেন। মানুষ আসলে রাতারাতি আকাশ ছুঁতে চায়। অভিনেত্রী হলে তাঁকে একটা দামি গাড়িতে চড়তে হবে, ব্যয়বহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে হবে।   বিবেচনা করাটা জরুরি। বাবা সব সময় বলেন, ‘এই অঙ্গনের মানুষদের জীবন তারাবাজির মতো। দ্রুত জ্বলে ফুরিয়ে যায়।’ আমি কখনোই সেটা চাইনি। আমি ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলতে পছন্দ করি না। আমি যা, আমি তাই-ই। আমার সিদ্ধান্ত আমারই। যেভাবে ভালো লাগে, আমি সেভাবেই জীবন কাটাব। এ নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। ওসব চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এলেও ‘না’ বলে দিই।স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: স্বস্তিকার ফেসবুক থেকে প্রশ্ন: মুম্বাইয়ের কাছ থেকে টালিউডের কী শেখার আছে? উত্তর: পুরোপুরি ওদের পক্ষও নেব না, আবার নিজেদের বিরুদ্ধেও বলব না। বলিউডের প্রত্যেকেই মনে করে, অন্যের ছবি ফ্লপ হয়েছে। কিন্তু সামাজিক মিডিয়ায় ভ্রাতৃত্ব দেখায় (হাসি)। এটা মজার। এসব দেখে একসময় পর্যন্ত আমার ভীষণ রাগ হতো। এখন হেসে উড়িয়ে দিই। দরদ, ভালোবাসা দেখানো, মঙ্গল কামনা করা লোকদেখানো। ফোনে ঠিকই বলে, ‘ওর ছবি তো চলছে না’, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বড়দের আচরণ এমনই। প্রশ্ন: এসব বাদ দিলে কি মনে হয় টালিউডে কাজের পরিবেশ ভালো? উত্তর: বিষয়টি ‘অনেক কিছুর থেকে ভালো’ এমন নয়। প্রয়োজনটা কী? আমি বুঝি না। যা আপনি চান না, সেটা করার মানে কী? প্রশ্ন: আপনার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস কী? উত্তর: আমার জীবনে বহু মানুষ এসেছে (হাসি)। পুরুষে ভরা জীবন আমার। পুরুষ ছাড়া জীবন বিরক্তিকর। তবে কথা হচ্ছে, লোকে আমার কাজ নিয়ে আলোচনা করে কম, সম্পর্ক নিয়ে করে বেশি।স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ছবি: স্বস্তিকার ফেসবুক থেকে প্রশ্ন: কাজের খাতিরে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার সূত্রটা কী? উত্তর: যাও, কাজ করো, বাড়ি ফিরে আসো। সহজ। আমরা সবাই বড় হয়ে গেছি, ১২ দিন পর আমি ৩৮-এ পা দেব। মানুষ ২০ বছর বয়সে জীবন নিয়ে বাছবিচার করে। আমার এই বয়সে এসে নয়। আর না। যদি সিদ্ধান্ত নেন যে কাজ করবেন, মানে হচ্ছে চরিত্রটা আপনি করতে চান বলেই কাজটা করবেন। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আপনি কাজটা করবেন। যদি ‘হ্যাঁ’ বলেন, মানে আপনি সম্পৃক্ত হবেন, কেন হবেন? ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ করেছি, কারণ এমন চরিত্রে একজন অভিনেত্রী তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে পায় না। প্রশ্ন: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে? উত্তর: সে চিৎকার–চেঁচামেচি করে না। খোঁচা দেয়। খুব ভদ্রভাবে সব বুঝিয়ে দেয়, যাতে আপনি কাজ করতে বাধ্য হন। আমার সঙ্গে অবশ্য এমন করে না। কিন্তু তিনি মানুষটা এমনই।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here