বিএনপির বিকল্প পরিকল্পনা

0
37

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। মোটামোটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ও তার জোট  সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে বা উল্লেখযোগ্য আসনে জয়ী হয়ে সংসদীয় বিরোধী দল হিসেবে নিরাপদ অবস্থান পাবে বলে তাদের দৃঢ়বিশ্বাস। বিদেশি প্রভাবশালী মহল থেকে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যজোট প্রধান ড.কামাল হোসেনকে ক্ষমতায় আসার ব্যাপারেও ধারণা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ড.কামাল হোসেনের আগ্রহী ও উদ্যোগী ভ‚মিকার এটি অন্যতম কারণ। অবশ্য ড.কামালের নিজস্ব একটি রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের হিসাব রয়েছে। এই হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
বিএনপি সূত্রে বলা হয়েছে যে, দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে ফুসে আছে তাতে ন্যূনতম সুযোগ পেলেই তারা সরকার বিরোধীদের পক্ষে ভোট দেবেন। এই ভোটের বড় অংশ এরশাদ পাবেন  বলে আশা করছেন। কিন্তু পাঁচ বছর সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পর নির্বাচন সামনে রেখে এরশাদের নাটকীয় সব কথাবার্তায় জাতীয় পার্টির প্রতি মানুষের আস্থা তেমন একটা নেই। তবে রংপুরে ২৫-২৭টি আসন নির্ধারিত হয়ে থাকায় অন্যান্য স্থানে এবং তার দলের ৪-৫ জনের বিজয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকায় এরশাদ ফ্যাক্টর হয়ে থাকছেন। তবে রংপুর ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানের দলের কর্মীরা ছাড়া দল অবস্থানে থাকা নিরপেক্ষ ভোটার সাধারনের মনোভাব ভিন্নতর এবং নির্বাচনে তারা তার বহি:প্রকাশ ঘটাবেন। বিএনপি গভীরভাবে আস্থাশীল এই ভোটারদের বৃহত্তর অংশ সরকারি দলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকাদের পক্ষেই থাকবে। বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যজোট নেতাদের আশঙ্কা সরকার সাধারনভাবে নির্বাচনে অনিয়ম,জাল-জালিয়াতির আশ্রয় হয়ত নেবেনা।কারণ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, বিদেশি ক‚টনীতিকদের প্রখর দৃষ্টি এড়িয়ে চলতে সচেষ্ট সরকারি মহল। তাদের বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই ঐক্যফ্রন্ট মনে করে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশটি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনে অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাও এমন সুকৌশল করা হবে সাদা চোখে যা ধরা কঠিন হবে। এরশাদের জাতীয় পার্টির বিজয়ী আসনগুলোসহ এই আসনগুলো হবে আগামীর নিয়ামক। কিভাবে কোন প্রক্রিয়া এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে উচ্চতর মহল তা নিয়ে কাজ করছেন। এমনও হতে পারে পূর্ব নির্ধারিত এই নির্বাচনী এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রগুলোর বিরোধী দলীয় এজেন্টরা সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভ‚মিকা রাখছেন। কেন্দ্রের বাইরে তাদের কর্মীদের অনুপস্থিতিও থাকতে পারে। আরো কিছু চিন্তাও কাজ করছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
জানা যায়, বিএনপি ও তার সহযোগীদের নির্বাচনে অংশগ্রহনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা সন্ত্রাস, সংঘাত-সংঘর্ষ, বোমাবাজি, মানুষ হত্যা, সম্পদ ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, জনমানুষের মধ্যে এ ধারণা প্রতিষ্ঠা করা। অব্যাহতভাবে তারা ধৈর্য্য সহনশীলতা দেখিয়ে আসছে মানুষের সমর্থন, সহানুভ‚তি পাওয়ার প্রত্যাশায়। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা দেশব্যাপী কর্মীদের সর্বাত্মকভাবে সক্রিয় করার সুযোগ হাতছাড়া না করারও কৌশল নিয়েছে। নির্বাচনে সরকারি দল নির্দিষ্ট সংখ্যক এলাকায় কারচুপি, জালিয়াতির আশ্রয় নিলেও বিএনপিও তার সহযোগীরা দেশব্যাপী সর্বাত্মক কর্মসুচিতে যাবে। ফলাফল প্রকাশের পরদিন থেকেই তারা লাগাতার অসহযোগ, অবরোধ কর্মসুচি শুরু করবেন। দেশের সাধারন মানুষের ভোগান্তি, তারা হয়রানির শিকার নাহন সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তারা কর্মসূচি দেবেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকবে কোনরকম ধ্বংসাত্মক, হিংসাত্মক ঘটনা যেন না ঘটে। কিন্তু জামায়াতকে সঙ্গী করে নির্বাচন করা এবং তাদের ক্যাডার বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে যে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি পালিত হবে, ৫ই জানুয়ারির পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের পূনরাবৃত্তি হবেনা সে ঝুঁকি থেকেই যাবে। সেই আশঙ্কায় তাদের কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা থাকবে কিনা সে সংশয়ও রয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার ব্যাপারে বিএনপি অব্যাহতভাবে দাবি জানিয়ে আসছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি, জাতীয় ঐক্যজোট, ২০ দলীয় জোট তাতে আস্থাশীল নয়। পুলিশী আচরনে তারা অসহনীয় অবস্থায়ই রয়েছেন। সামনের দিনগুলোর দিকে প্রখর দৃষ্টি রাখবে বিএনপি। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে তারা নির্বাচন কমিশন, সম্পাদকবৃন্দ, বিদেশি ক‚টনীতিক, দেশী, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সাথে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করার পাশাপাশি দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনতে বাধ্য হওয়ার কথাও বলবেন। শেষ পর্যন্ত তারা একযোগে তা করার পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছেন। এক্ষেত্রে বড় সমর্থন ও শক্তি যোগাবেন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ক‚টনীতিকরা। সম্ভাব্য এ পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ ২০ দল, ও মহাজোট সরকার গঠন করতে পারলেও দেশের রাজনীতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় শঙ্কাও থেকেই যাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here