আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় ঐক্যফ্রন্ট

0
164

নিজস্ব প্রতিবেদক : লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেছেন।
জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন এবং পশ্চিমা বিশ্বের দেশসমূহের কুটনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রধানদের বরাবর চিঠি দিচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন। এ নিয়ে তিনি বিদেশী প্রভাবশালী দেশসমূহের ক‚টনীতিকদের সঙ্গে এর মধ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলেও জানা যায়। বিএনপির দিক থেকেও আলাদাভাবে অনুরূপ চিঠি দেয়া হবে।
ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান প্রধান দাবিসমূহ অপূর্ণ রেখে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার শর্তে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে সম্মত হন। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দ করার পর নির্বাচনী মাঠে নামার পর থেকেই তারা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাচ্ছেন। বিরোধী দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার হয়রানি করে নির্বাচনী এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানানোর পরও প্রতিকার পাচ্ছেন না প্রভৃতি অভিযোগ সম্বলিত চিঠি দেয়া হবে কয়েকদিনের মধ্যেই। সরকারি দলের নেতৃস্থানীয় সূত্র মনে করেন, শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বিএনপি ও তার সহযোগিরা নির্বাচনী মাঠ ত্যাগের পরিকল্পনা করছে। তারই অংশ এসব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের দিক থেকে নির্বাচন কমিশনকে সবরকম সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই সংঘটিত ঘটনাবলীতে উদ্বিগ্ন বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা। ঢাকাস্থ নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহŸান জানিয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথাও বলেন যে, বাংলাদেশে নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতি তাদের সমর্থন নেই। অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনই তাদের কাম্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের কিছু অভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা একান্তভাবে কামনা করে। এ লক্ষ্যে তারা উভয়েই বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা দিয়ে আসছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো তাদের পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন এবং অন্য মাধ্যমকেও বাংলাদেশে গোলযোগ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাতে পারে। ৫ই জানুয়ারির মতো ধ্বংসাত্মক, প্রাণহানিকর ঘটনার অনুসরণ না করে তারা কৌশল ও কর্মপন্থা পাল্টাতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তৃতীয় শক্তির অপতৎপরতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here