ঢাকা শহর ঘিরে ৮২ কি. মিটার বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা

0
277

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকা শহরের চারপাশে এলিভেটেড বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের সঙ্গে ট্রেনের ডিপো নির্মাণ, রোলিং স্টক ও কোচ সংগ্রহ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৪.২৯৮ দশমিক ৪৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশাল ব্যয়বহুল এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান ও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনা সহায়তায় এরি মধ্যে প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এতে এই প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক উপযোগিতার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে তা রোধ করা এবং স্বল্পব্যয়ে, স্বল্প খরচে মানুষের ঢাকা আসা ও আবার ফিরে যাওয়ার এবং শহরে যানজট কমাতে ও মানুষের স্বস্তিদায়ক চলাচলের জন্য এ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ৮১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুৎচালিত রেলে মোট ২২টি স্টেশন থাকবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য নিজস্ব পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম ট্র্যাকসন পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম থাকবে। চার থেকে সাড়ে চার মাইল দূরবর্তী হবে স্টেশন। স্টেশনগুলো হবে টঙ্গী, তেরমুখ, পূর্বাচল রোড, বেরাইদ, কায়েতপাড়া, ডেমরা, সিদ্ধিরগঞ্জ, চৌধুরীবাড়ি, চাষারা, ফতুল্লা, শ্যামপুর, সদরঘাট, বাবুবাজার, নওয়াবগঞ্জ, গাবতলী, ঢাকা চিড়িয়াখানা, বিরুলিয়া, উত্তরা, দোহার, টার্মিনাল স্টেশন। রেলের বগি থাকবে শীততপ নিয়ন্ত্রিত। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ প্রতিঘণ্টায় ট্রেনে যেতে পারবে।
রেল লাইন ও রেল স্টেশন নির্মাণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপনসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে সাত বছর। চলমান অবস্থায় গাড়ির গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ অপারেশনাল স্পিড থাকবে প্রতিঘণ্টায় ৭০ থেকে ৭২ কিলোমিটার। স্বয়ংক্রিয় ফায়ার এলার্ম, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেক স্টেশনে স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবস্থা রাখা হবে। সকল স্টেশনে পাওয়ার মনিটরিং অটোমেশন সিস্টেম থাকবে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় প্রাক্কলিত হয়েছে তা তিন বছর আগের হিসেবে। টাকার বাস্তবায়নাকালীন  মূল্যমান, নির্মাণসামগ্রীর সম্ভাব্য বর্ধিত মূল্য ধরে মোট ব্যয় পাঁচ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিপুল ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার চিন্তিত নয়। জাপান ও কানাডা, চীন এতে অর্থায়ন করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিনিয়োগকারীরা যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অর্থ মুনাফাসহ উঠিয়ে নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হবে। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে না গিয়ে বিদেশী ঋণ নিয়ে সরকারিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রথম বছরেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ বাংলাদেশ রেলওয়ে এরি মধ্যে শুরু হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here