যে কারণে ১৪ দলের শরিকদের সরকারে নেয়া হয়নি

0
13

Untitled-16
নিজস্ব প্রতিবেদক :  দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সরকারকেও বিব্রত করেছে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনা কামনা করলেও জাতীয় পার্টি সে ভূমিকা রাখতে পারেনি। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের কাছেও তা প্রত্যাশিত ছিল না। পার্টির বিকাশকে যা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারের অংশীদার হওয়ার পরিবর্তে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন এরশাদ নিজে। শারীরিক প্রচ- সীমাবদ্ধতার কারণে এরশাদ তাঁর ছোটভাই জি এম কাদেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা নিয়োগ করেছেন। কার্যত তিনিই বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের নীতি-নির্ধারকরা একাদশ সংসদকে অত্যান্ত কার্যকর দেখতে চায়। জাতীয় পার্টির জন্যই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থেই তাদের এ প্রত্যাশা। ১৪ দল ও সরকারের শরিকদের সংসদে জোরালো ভূমিকা, গঠনমূলক সমালোচনার জন্যই মূলত তাদের সরকারের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান), জেপি (মঞ্জু) গত পাঁচ বছর সরকারের অংশীদার ছিল। সরকারি সুযোগ-সুবিধাও কেউ কম ভোগ করেননি। আসন নিশ্চিত করে এবারও সরকারের অংশীদার হওয়ার প্রত্যাশা ছিল শরিক প্রতিটি দলেরই। সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ঘটনা দলগুলোর নেতা-কর্মীদের দারুণভাবে হতাশ করেছে। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার ব্যাপারে গভীরভাবে প্রত্যয়ী ছিলেন। কেউ কেউ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের টেলিফোনের অপেক্ষায় ছিলেন অধীর আগ্রহে। কিন্তু সচিবের ফোন না আসা তাদের হতাশ করে। বিশেষ করে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তাদের সঙ্গে কথা না বলার ঘটনা তাদের ব্যথিত করেছে। শরিক কোন কোন দলের নেতা তা রাজনৈতিক পরিভাষায় প্রকাশও করেছেন। শরিক দলগুলো  ও দেশের স্বার্থেই যে তাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে তা তারা অতি সম্প্রতি বিবেচনায় এনেছেন বলেও জানা যায়।
নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও তার সহযোগীদের অবাক করা বিপর্যয় রাজনীতির হিসেব ওলট-পালট করে দিয়েছে। তারা যদি শেষ পর্যন্ত সংসদে যোগদানও করেন মাত্র সাতজন সদস্য উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা রাখতে পারবেন না। তারা শপথ না নিলে সংসদ হবে পুরোপুরি বিরোধী দলবিহীন। যা অনিন্দ সুন্দর সংসদকে ফুল,পাখি, পোকা মাকড়বিহীন অপ্রস্ফুটিত ফুলের বাগান বলেই মনে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল আরো মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে সংসদ জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, আদৌ পারবে কিনা সে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। মূলত সে উপলব্ধি থেকেই জাতীয় পার্টির সরকারের বাইরে থাকার সিদ্ধান্তকে সরকারি মহল থেকে স্বাগত জানানো হয়। ১৪ দলের শরিকদেরও সংসদে বিরোধী দলে থেকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় আসার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এই বাস্তবতা স্বীকার করেও কোন কোন দলের বাগবিলাসী ও ক্ষমতার মোহ কাটাতে না পারা নেতাদের হতাশা দূর হচ্ছে না। অপরদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সর্বাত্মক সমর্থন সহযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে তাদের সরকারের সমালোচনা দেশের রাজনীতি সচেতন মানুষের কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে সে প্রশ্নও রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here