রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে

0
225

আনোয়ারা পারভীন : এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বছরের শুরুর দিন রিজার্ভ ৩২.০২ বিলিয়নে পৌঁছেছিলো। গত মঙ্গলবার আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের ১১৪ কোটি ৮০ লাখ (১.১৫ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর সেই রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ১০৮ কোটি (৩১.০৮ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় আট মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। এরমধ্যে নতুন করে রিজার্ভ জমাও হবে।
গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ঐ বছরেরই ৪ নভেম্বর ছাড়ায় ৩২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালের ২২ জুন রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। মাস দুয়েকের মধ্যে তা আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে উঠে। আর ওটাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ। আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর ঐ রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসে। এরপর আর তা ৩৩ বিলিয়ন ডলারের উপরে উঠেনি। আমদানি বাড়ায় রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসে। গত নভেম্বরে তা ৩১ বিলিয়ন ডলারেরও নীচে নেমে যায়। ৩১ ডিসেম্বর সেই রিজার্ভ ফের ৩২.০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, আমদানি কমায় এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়ার কারণে আকুর দেনা পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের উপরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশ দুই মাস পরপর পরিশোধ করে আকুর বিল।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর এই ছয় মাসে রেমিটেন্স ৮ শতাংশের বেশি।জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পণ্য আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমেছে ২৯ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করেই চলেছে। মঙ্গলবারও ব্যাংকগুলোর কাছে ১৮ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ছয় মাস ৮ দিনে (২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত) ১১৫ কোটি ডলার (১.১৫ বিলিয়ন)  বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here