বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি : ফিলিপিন্স ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদন্ড

0
91

নিউজ ডেস্ক: সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) তৎকালীন এক শাখা ম্যানেজারকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজার রায় দিয়েছে ফিলিপাইনের একটি আদালত। রিজার্ভ চুরিসহ অর্থ পাচারের আট দফা অভিযোগে গতকাল মায়া সান্তোষ দেগুইতো নামে ওই নারী কর্মকর্তাকে ৩২ থেকে ৫৬ বছর কারাদ- এবং ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার অর্থদ- দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি অভিযোগের জন্য চার থেকে সাত বছর করে কারাদ- ঘোষিত হয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাতরা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে ওই অর্থ ম্যানিলার আরসিবিসি শাখার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ওই শাখার প্রধান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতেন দেগুইতো। চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে পরে সেই অর্থ ফিলিপিন্সের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মাধ্যমে দেশটির তিনটি কাসিনোতে যায়। তারপর থেকে সেই অর্থের কোন হদিশ পাওয়া যায়নি। দেগুইতো এই অবৈধ ব্যাংক লেনদেন সহজে বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জড়িত ছিল বলে দাবি আদালতের। তবে আদালতের সামনে মিস দেগুইতো জানিয়েছেন, এই অর্থ লেনদেনের পেছনে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আরসিবিসি’র মুখপাত্র থে ডায়েপ এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেগুইতোকে যে দ-াদেশ দেয়া হয়েছে কারণ তিনি একজন অসৎ কর্মকর্তা ছিলেন। এবং এই রায় ব্যাংকে তার যে অবস্থান তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিবৃতিতে আরও বলা হয় আরসিবিসি ব্যাংক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। দেগুইতো এই অবৈধ ব্যাংক লেনদেন সহজে বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের জড়িত ছিল বলে দাবি আদালতের। তবে দেগুইতো এখন কারাগারে নেই কারণ তিনি জামিন চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন সেটা তার বিরুদ্ধে দ-াদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেগুইতোর একজন আইনজীবী জোয়াকুইন হিজোন।
দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন কার্যকর হবে, তার আইনজীবী জোকিন হিজন একথা বলেছেন। তার অপর আইনজীবী, দেমেত্রিও কাস্টোডিও, বলেন, দেগুইতোর বেকসুর খালাসের জন্য তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। এছাড়া কাস্টোডিও বলেন, এমন অনেক লোক আছে যার এই ঘটনার জন্য দেগুইতোর মতো ব্যাংক কর্মকর্তার চাইতেও বেশি দায়বদ্ধ। কেননা , ব্যাংক পরিচালনার এই বিষয়টিতে তার কিছু করার নেই। এই অবৈধ অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সালের অগাস্টে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরসিবিসিকে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১শ কোটি পেসো বা ১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে। আরসিবিসি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল সেখানকার পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যানিলা জাঙ্কেট অপারেটর থেকে চুরি করা অর্থের মাত্র দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সেইসঙ্গে , অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে সফর করবেন বলে জানা গিয়েছে। এই অর্থ চুরির পেছনে জড়িত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফিলিপাইনের মাকাতি শহরের আরসিবিসি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসার পর তা মুদ্রা লেনদেনকারী ফিলরেম নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। মায়া সান্তোস দেগুইতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে অর্থ আনা এবং তা চারটি অজ্ঞাত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা করার বিষয় নিজে তদারকি করেছিলেন বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে। তিন বছর আগে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া ওই সাইবার চুরির ঘটনায় গত বছরের আগস্টে মায়া সান্তোস দেগুইতোকে গ্রেপ্তার করে ফিলিপাইন সরকার। তবে তিনি আদালতে অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে করেছেন। তাঁর দাবি, আরসিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে কিছু কাজ করতে হয়েছে। আদালত গতকাল ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলেছে, ‘অর্থ লেনদেনে তাঁর কিছুই করার ছিল না বলে মায়া আদালতে যে কথা বলেছেন, তা একেবারে নির্জলা ও বড় ধরনের মিথ্যা।’তবে মায়ার আইনজীবী ডেমি কাস্টোডিয়ো এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here