বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে

0
77

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি : জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে  ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা হয়। শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাঁর বক্তব্যে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে সুদীর্ঘ সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, পাকিস্তানী সরকার গ্রেফতার করার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণা, গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া এবং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পুনরায় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন-স্বার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার ইতিহাস তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর যে বিজয় অর্জন করেছিল, সে বিজয়ের আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতাকে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে ফিরে পেয়ে”।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪র্থ বারের মতো গঠিত সরকারের সূদূরপ্রসারী রূপকল্পসমূহের কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে পারবো”।
নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে মোমেনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে আরও নেতৃত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখে পররাষ্ট্র খাতে ‘শেখ হাসিনা সরকার’র ইপ্সিত সাফল্য তুলে আনতে পারবে বলে রাষ্ট্রদূত মাসুদ তাঁর প্রত্যাশার কথা জানান।
এ সভায় মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম, ইকোনমিক মিনিস্টার ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার খান ফিরোজ আহমেদ এফডব্লিউসি, পিএসসি, মিনিষ্টার (পলিটিক্যাল) মনোয়ার হোসেনসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা ছিলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালতা করেন মিশনের হেড অফ চ্যান্সারি নিরুপম দেব নাথ।
নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গত ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের আলোচনা সভায় কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা  বলেন, বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি মুক্তস্বাধীন বাংলার মাটিতে জাতিরজনকের পদার্পণের পরই সত্যিকারের বিজয় অর্জিত হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবর রহমানের দূরদর্শিতাপূর্ণ নেতৃত্বের অনুকরণে তার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরেছে।
সাদিয়া বলেন, টানা তৃতীয়বারের মত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দেশের আপামর জনসাধারণের গভীর আস্থা ও অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
উন্নয়নের এই অভিযাত্রায় দেশের কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ব্রতী হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জনকল্যাণমূলক কনস্যুলার সেবা প্রদানের জন্য কনসাল জেনারেল কনস্যুলেটের সকল সদস্যের প্রতি আহবান জানান।
আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here