মিয়ানমারে রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের ৭ বছরের সাজা বহাল

0
61

নিউজ ডেস্ক : গতবছর সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওরকে (২৮)  রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করে সাজা দেন  জেলা জজ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছে মিয়ানমারের হাই কোর্ট। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাত বছরের সাজার রায় বহাল রেখেছে দেশটির আপিল আদালত। বিচারক অং নাইং তার রায়ে বলেছেন, আসামিরা নির্দোষ-এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তারা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। “এটা তাদের জন্য উপযুক্ত শাস্তি। দুই সাংবাদিক সাংবাদিকতার নৈতিকতা মেনে চলেননি। তাদের ফাঁদে ফেলে গ্রেপ্তার করার যে অভিযোগ আসামিপক্ষ করেছে, সে বিষয়েও আদালত নিশ্চিত হতে পারেনি।”এই রায়ের বিরুদ্ধে এখন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক।  সেখানে যে রায় আসবে, সেটাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। গত সেপ্টেম্বরে জজ আদালতে দুই সাংবাদিকের সাজার রায়ের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন মিয়ানমারে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শুক্রবারের রায়ের পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টেফেন এক বিবৃতিতে বলেন, “ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর উপর যেসব নিপীড়ন চালোনে হচ্ছে আজকের রায় সেসব অন্যায়ের একটি। তারা এখনও গরাদের পেছনে থাকার একটাই কারণ: যারা ক্ষমতায় আছে তারা সত্যের মুখ বন্ধ করতে চাইছে।” ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা অপরাধ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার এই ভয়ঙ্কর ভুল শুধরে না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটিতে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আসবে না। মিয়ানমার আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র চর্চার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা নিয়েও সন্দেহ থেকে যাবে।”
গত মাসে আপিল আবেদনের শুনানিতে দুই সংবাদিকের আইনজীবীরা তাদের কাছে পুলিশের ফাঁদ পাতার প্রমাণ থাকার এবং তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যপ্ত প্রমাণ না থাকার দাবি করেন। ‘নিম্মআদালত এই মামলা ভুলভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দায় দুই সাংবাদিকের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন’ বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তা মিয়ানমারের শত্রুদের কাছে পাচার করে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” এছাড়া আসামিদের ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করার যে অভিযোগ সে বিষয়েও আদালত নিশ্চিত হতে পারেনি।
রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে’কে (২৮) সাত বছরের কারাদ- দিয়েছিল মিয়ানমারের নিম্ন আদালত।  ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই দুই সাংবাদিককে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তাদের হাতে কিছু কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গঠন করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বিদেশি গণমাধ্যমকে সরবরাহ করতে এসব তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে দুই সাংবাদিকের আইনজীবী বলেছেন, পুলিশই তাদের ফাঁসিয়েছে। কারণ, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি প্রকাশ করায় কর্মকর্তারা তাদের শাস্তি দিতে চাইছেন।
মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যার একটি ঘটনা অনুসন্ধান করেছিলেন রয়টার্সের সদুই সাংবাদিক। পরে তাদের আটক করে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। রয়টার্স দাবি করে, রাখাইনে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেন এই দুই সাংবাদিক। সে জন্যই তাদের আশা ছিল যে দুই সাংবাদিকের তৎপরতা জনস্বার্থ হিসেবেই বিবেচিত হবে। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিলাম, কারণ, এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে যা ছিল: উত্তর রাখাইনের ইনদিন গ্রামে সেনাবাহিনী ও কিছু গ্রামবাসী মিলে সারিবদ্ধভাবে একদল রোহিঙ্গাকে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ওই ঘটনাই উঠে এসেছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যার তথ্য-উপাত্ত ওই দুই সাংবাদিকই সংগ্রহ করেছিলেন। রয়টার্স দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এটিই প্রথম কোনো প্রমাণ। সরকার পক্ষে আইনজীবী খিনে খিনে সোয়ে বলেন, আপিলের শুনানির সময় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গোপন নথি সংগ্রহ এবং তা নিজেদের কাছে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। “জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।”উদ্ঘাটন করেন এই দুই সাংবাদিক। সে জন্যই তাদের আশা ছিল যে দুই সাংবাদিকের তৎপরতা জনস্বার্থ হিসেবেই বিবেচিত হবে। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিলাম, কারণ, এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে যা ছিল: উত্তর রাখাইনের ইনদিন গ্রামে সেনাবাহিনী ও কিছু গ্রামবাসী মিলে সারিবদ্ধভাবে একদল রোহিঙ্গাকে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ওই ঘটনাই উঠে এসেছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যার তথ্য-উপাত্ত ওই দুই সাংবাদিকই সংগ্রহ করেছিলেন। রয়টার্স দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এটিই প্রথম কোনো প্রমাণ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here