ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের নজিরবিহীন কান্ড

0
25

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ভারতে দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্য খুলনা হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় চারশ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপের জন্য পরামর্শকের পিছনে ব্যয় হচ্ছে ৫৮ কোটি টাকা। অর্থের যোগান দিচ্ছে ভারত। পরামর্শকও ভারতীয়। বিস্ময়কারভাবে কাজ শুরু করার আগেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে পঞ্চাশ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে ।
রেলপথ  মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) আওতায় খুলনা হতে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১০ হতে ডিসেম্বর ২০১৩। এই সময়ে কাজ শুরু করাই হয়নি। কাজের পরিধি বৃদ্ধি, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বদল নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা এবং এলাইনমেন্ট চূড়ান্ত করণ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৪্-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত নেয়া হয়। তৃতীয় দফায় বাড়িয়ে ২০১৮ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।  এক মাস পরেই প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়িয়ে ২০২০-এর জুন পর্যন্ত নেয়া হয়। চার দফায় মেয়াদ বাড়ানোর নজির রেলের ইতিহাসে এই প্রথম ।
অস্বাভাবিক এই বিলম্বের প্রধান কারণ হচ্ছে সম্ভাব্যতা জরিপের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অনাকাক্সিক্ষত আচরণ। মূল পরামর্শক নিয়োগ করা হয় সিইজিএনকেআই জেভি নামক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে। কাজ সম্পাদনের জন্য তাদের সঙ্গে ৪২ মাস মেয়াদি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ বছরের ১৪ জুন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিমূল্যের পঞ্চাশ শতাংশ পরিশোধ করা হয় দুই দফায়। প্রথম দফায় কাজ শুরু করার আগে ত্রিশ শতাংশ এবং অবশিষ্ট বিশ শতাংশ অর্থ দেয়া হয় কাজ শুরু করার চার মাসের মধ্যে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু এক্সিম ব্যাংকের  সুপারিশে অর্থ দিতে হয়। অথচ তারা কাজ করেনি। কাজ সম্পাদনে তাদের সীমাবদ্ধতার  কথা জানিয়ে স্টাপ কনসালট্যান্ট (প্রা.) লি, ভারত নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে একই শর্তে সাব-কনসালট্যান্ট নিয়োগ করার প্রস্তাব করে। নজিরবিহীন এ প্রস্তাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে আপত্তি জানায়। কিন্তু ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সুপারিশে তা মেনে নিতে হয়। এ প্রকল্পের জন্য অর্থ ছাড়ের বিষয়টি এক্সিম ব্যাংক সাব-কনসালট্যান্ট নিয়োগের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে। যার ফলে রেলওয়ে নিরূপায় হয়ে পড়ে। এই সাব কনসালট্যান্টও কাজে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। চুক্তি অনুযায়ী সাইটে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রাখার কথা। যাতে ভালভাবে কাজের সুপারভিশন হয়। কিন্তু তা না হওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নজিরবিহীন এ অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অসহায় বোধ করছে। এখন নতুন করে তাদের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ যেমনি যাবে, অতিরিক্ত সময়ও লেগে যাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here