জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ১৯ জানুয়ারি

0
82

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার সারাদেশে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে পালিত হবে জাতীয় ভিটাামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এদিন ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের ১টি নীল রঙের (১ লক্ষ আই,ইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ১টি লাল রঙের (২ লক্ষ, আই,ইউ) উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ভিটামিন এ  শুধু যে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে তাই নয়, একই সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে, শিশুমৃত্যুর হার কমায়, শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করে এবং ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হামের জটিলতা কমায়। এ বছর ২ কোটির বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ১৯৭৪ সাল থেকে জাতীয়ভাবে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ কার্যক্রমের ফলে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে শতকরা ৯৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহ¯্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ছিল রাতকানার শতকরা হার ১ ভাগের নিচে নামিয়ে আনা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সে লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে ভিটাামিন ‘এ’ অভাবজনিত রাতকানার হার শতকরা ০.০৪ ভাগ। তাছাড়া ভিটাামিন ‘এ’ শিশুর  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে এই অর্জিত হার ধরে রাখা অথবা তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বছরে ২ বার ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের ১টি নীল রঙের (১ লক্ষ আই,ইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ১টি লাল রঙের (২ লক্ষ, আই,ইউ) উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া একান্ত জরুরি।
এদিকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শেখ সালাহ্উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, সাধারণত বছরে দুইবার জুন ও ডিসেম্বর মাসে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। তবে নির্বাচনের কারণে গত বছরের ২য় রাউন্ডের ক্যাম্পেইন এ বছর জানুয়ারি মাসে পরিচালনা করা হবে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে এ বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে ৬-১১ মাস বয়সী প্রায় ৪৭ হাজার শিশু ও ১২-৫৯ মাস বয়সী সোয়া তিন লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here