মারাত্মক ঝুঁকিতে যমুনা ইউরিয়া ফ্যাক্টরী

0
156

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোন সময় এই কারখানায় বিষ্ফোরন ঘটে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যা দেশে সার ও কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ফ্যাক্টরি ১৯৯১ সালে চালু হওয়ার পর গত তিন মাস আগে একটি বিষ্ফোরণ ছাড়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে উৎপাদনে আছে। নির্মাণকালীন সময়ে কারখানার আয়ুস্কাল ধরা হয়েছিল বিশ বছর। কারখানাটি চলছে সাতাশ বছর যাবত। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদির কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইতোমধ্যে কারখানার উৎপাদন ৮০ শতাংশে নেমেছে। উৎপাদন ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে। সরঞ্জামাদি জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন করা না হলে মারাত্মক বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে।
জানা যায়, ১৯৯১ সালে এই কারখানার ইরেকশন করা হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত এমোনিয়া কনভার্টারের ক্যাটালিস্ট ও বাসকেট পরিবর্তন করা হয়নি। কনভার্টার ক্যাটালিস্টের লাইফ সাধারনত ৮ থেকে ১০ বছর। কনভার্টার বাসকেটের জীবন আঠার থেকে বিশ বছর। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছরই কারখানার ওভারহলিং এর সময় কনভার্টার ডাউন স্ট্রীম ও এমোনিয়া সিসথেসিস লুপের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে প্রচুর পরিমানে আয়রন ক্যাটালিস্ট ডাস্ট পাওয়া যায়। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কেজি পরিমানে ডাস্ট পড়ার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়া, এমনকি বড় ধরনের বিষ্ফোরনে দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ীভাবেও কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা তারা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনকে জানান। ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ফ্যাক্টরীর এমডি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে অতি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। ২০১১ সালেই কর্তৃপক্ষ কারখানার এমোনিয়া প্ল্যান্টের প্রসেস লাইসেন্সের মতামত চান। তাদের প্রতিনিধি সায়েন্ড লিসি পিটারসন সরেজমিনে পরীক্ষা করতে জামাপুরের তারাকান্দি যান। চালু অবস্থায় বিভিন্ন প্যারামিটার সংগ্রহ করে প্রদত্ত রিপোর্টে তিনি দ্রুত এমোনিয়া প্ল্যান্ট ও কনভার্টার পরিবর্তন করার সুপারিশ করেন। প্রকৌশল বিশ্বাবিদ্যালয়ের তিনজন বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে ও কারখানার প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সরেজমিনে পরীক্ষা করে উল্লেখিত দুটোসহ আরো বেশ কয়েকটি মেশিনারি পরিবর্তন ও সংস্কারের পরামর্শ দেন। স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মেশিনারি পরিবর্তন ও স্ংস্কারের ব্যয় হবে  ৫শ’কোটি টাকার বেশি। অত্যন্ত জরুরিভিত্তিতে আংশিক সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজন দেড়শ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিয়ে মেশিনারি সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কারখানার ইউরিয়া প্ল্যান্টের চারটি ইকুইপমেন্ট এইচ পি স্ক্যাবার, রিএ্যাক্টর, এইচ পিসিসি ও স্ট্রীপার এবং এমোনিয়া প্ল্যান্টের কনভার্টার ও কনভার্টার বাস্কেট সংশ্লিষ্ট প্রসেস লাইসেন্সর নিজস্ব ডিজাইনে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এইসব ই্কুইপমেন্ট প্রসেস ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে ক্রয় করা যায় না। সমস্যা দেখা দিয়েছে লাইসেন্স, ইকুইপমেন্টগুলোর মুল উৎপাদনকারী কারখানা এ সব যন্ত্রপাতির অস্বাভাবিক মূল্য চাচ্ছে। সরবরাহকালীন সময়ের চেয়ে দুই শতগুন অধিক দামে তাদের কাছ থেকে এগুলো কিনতে হবে। কারখানা চালূ রাখার স্বার্থে তাই করতে হচ্ছে। এজন্য আগামী সাত-আটমাস কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে। এই কারখানা বছরে দুই লাখ মে.টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ইউরিয়া সারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে এই কারখানা। উৎপাদন বন্ধ রাখার জন্য বর্ধিত পরিমানে আমদানী করে উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here