লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ পাক জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের বিমান হামলা

0
37

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করল ভারতীয় যুদ্ধবিমান। পুলওয়ামা হামলার প্রত্যাঘাতে মারা গিয়েছে ৩০০ জইশ ই মহম্মদের সিনিয়র কমান্ডাররাও। সরকারি বিবৃতিতে জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিজয়কেশব গোখলে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে হামলা চালায় যুদ্ধবিমান। তাতে ২৫০ জঙ্গি হত্যা করে তারা।  

নিউজ ডেস্ক: গতকাল ভোরেই পুলওয়ামা হামলার প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় বিমান সেনা। ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে। বালাকোট, চাকোটি এবং মুজফ্?রাবাদে জইশ-ই-মহম্মদের তিনটি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জইশের কন্ট্রোল রুম আলফা-৩। এর পর থেকেই তৎপরতা শুরু হয় পাকিস্তানেও।পাকিস্তানও হামলা করতে পারে, এই আশঙ্কার হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও। ভোরে বিমান সেনার প্রত্যাঘাতের কয়েক ঘণ্টা পরই গুজরাতের কচ্ছ সীমান্তে ড্রোন পাঠায় পাকিস্তান। কিন্তু সেনা অত্যন্ত সতর্ক থাকায় পাকিস্তানের ছক বানচাল হয়েছে।কাশ্মীরে প্রত্যাঘাতের পর এ বার গুজরাতের কচ্ছ সীমান্তে একটি পাকিস্তানের ড্রোন গুলি করে নামাল ভারতীয় সেনা।মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ গুজরাতের কচ্ছ সীমান্তে একটি পাকিস্তানের ড্রোন নজরে আসে সেনার। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেটা গুলি করে নামায় ভারতীয় সেনা।নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করল ভারতীয় যুদ্ধবিমান। পুলওয়ামা হামলার প্রত্যাঘাতে মারা গিয়েছে ৩০০ জইশ ই মহম্মদের সিনিয়র কমান্ডাররাও। সরকারি বিবৃতিতে জানালেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিজয়কেশব গোখলে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে হামলা চালায় যুদ্ধবিমান। তাতে ২৫০ জঙ্গি হত্যা করে তারা। এর পরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল,  প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন-সহ উচ্চ পদস্থ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের পরই এই সরকারি বিবৃতি দেন পররাষ্ট্র সচিব বিজয়কেশব গোখলে। পররাষ্ট ্রসচিব একে ‘নন-মিলিটারি প্রিএমটিভ অ্যাকশন’ বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সেনা গোয়ান্দাদের কাছে খবর ছিল পাকিস্তান ভারতের উপর হামলা চালাতে পারে। এই সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশেই ভারতের এই সেনা অভিযান। সরকারি বিবৃতিতে পররাষ্ট্র সচিব জানান, এই প্রত্যাঘাতে মারা গিয়েছে জইশ ই মহম্মদের অনেক সিনিয়র কমান্ডার। বালাকোটে সবচেয়ে বড় জইশ জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। সেটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে ভারত। যুদ্ধবিমানের এই প্রত্যাঘাতে বহু জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। এই জঙ্গি ঘাঁটিগুলো পরিচালনা করত জইশ ই মহম্মদের জঙ্গি নেতা ইউসুফ আজহার। সে মাসুদ আজহারের শ্যালক। হামলার তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব । গত দু’দশক ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে এবং পাকিস্তানেরও বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি সংগঠনগুলো সক্রিয় ছিল। ভারত একাধিকবার এ বিষয়ে প্রমাণ-সহ নথি পাকিস্তানকে তুলে দিয়েছে। অনুরোধ করেছে অবিলম্বে ওই পরিকাঠামোগুলোকে ধ্বংস করার। কিন্তু পাকিস্তান সে অনুরোধে কান দেয়নি। পররাষ্ট্র সচিব জানান, সে জন্যই এই পদক্ষেপটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here