আখাউড়া -আগরতলা রেল পুন:স্থাপন কাজ শেষ হবে আগামী বছর ডিসেম্বরে ভারতীয় মালামাল ঠিকাদার শ্রমিক দিয়ে কাজ হচ্ছে রেলপথমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর থেকে সীমান্তবর্তী শিবনগর মৌজা পর্যন্ত এলাকা এবং ভারতীয় অংশেও প্রচুর খানা-খন্দক, ডোবা রয়েছে। ভূতাত্ত্বিক কারনেই এ এলাকায় রেল লাইন স্থাপনের কাজ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

0
105

নিজস্ব প্রতিবেদক: আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ পুন:স্থাপনের কাজ আগামী বছরের  শষের দিকে শেষ হবে এবং ২০২১ সালের প্রথম দিকেই চালু হবে সরাসরি ট্রেন চলাচল। এ দিকে লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইনে রেলের কাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের মধ্যে ডাবল লাইনের কাজ শেষ করা হবে। এতে দুই দিক থেকেই রেলে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাবে ভারত। পরিবহন মাশুল বিভিন্ন শুল্ক বাবদ বাংলাদেশেরও মোটা অ্েঙ্কর আর্থিক সুবিধা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আগরতলা-আখাউড়া রেললাইন পুন:স্থাপনে ভারত সরকার ২শ ৪০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। তাদের অর্থায়ন, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, সরঞ্জামাদি দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। ভারতীয় রেলওয়ে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স সমস্ত কাজ তদারকি করছে। মাটি ভরাট কাজই জটিল বলে মূল কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। রেলপথমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর থেকে সীমান্তবর্তী শিবনগর মৌজা পর্যন্ত এলাকা এবং ভারতীয় অংশেও প্রচুর খানা-খন্দক, ডোবা রয়েছে। ভূতাত্ত্বিক কারনেই এ এলাকায় রেল লাইন স্থাপনের কাজ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এ কারণে বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থায় মাটি শক্ত করে রেলপথ স্থাপনে সময় লাগছে। মন্ত্রী জানান, এরিমধ্যে বিশ শতাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে আগরতলা-আখাউড়া রেল চলাচল শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, গঙ্গাসাগর থেকে শিবনগর মৌজা পর্যন্ত পুরো সাত কিলোমিটার এলাকায় অসংখ্য ডোবা, গর্ত, জলাশয়, কর্দমাক্ত মাটি। ভূতাত্ত্বিক এই সমস্যার প্রেক্ষিতে নিচে পাইপের মতো টিউব ঢুকিয়ে পানি বের করে আনা হচ্ছে। মাটি ফেলে তা কমপ্যাক্ট করতে সময় লাগবে। এক থেকে তিনমিটার দৈর্ঘ্যে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে পনেরটি। অধিকাংশের নির্মাণ কাজই শেষ হয়েছে। গঙ্গাসাগর থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পুরো লাইনের উপর বাধঁ দিতে হবে। মাটি ভরাটের কাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয় কৃষকেরা এসব জমিতে ধানচাষ করছেন বলে তিন, চারমাস কাজ পিছিয়ে গেছে। মানবিক কারনে কৃষকদের এ সময়টা দিয়েছে সরকার। ফসল উঠার পরই কাজ জোরেসোরে শুরু করা হবে। জানা যায়, সীমান্তে আগরতলা থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ভারতীয় অংশের আট কিলোমিটার রেল লাইন পুন:স্থাপনে একই সমস্যা হচ্ছে। ভারতীয় ঠিকাদার মেসার্স টেকনাফো রেল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি: নিশ্চিন্তপুর থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেল লাইন পুন:স্থাপনের কাজ করছে। প্রকল্প পরিচালক বলেন, ভূতাত্ত্বিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রেললাইন পুন:স্থাপনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। জানা যায়, আগামী ২০২০ সালের প্রথম দিক থেকেই আগরতলা -আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। স্বল্প সময়ে ও কম খরচে উত্তর পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের বিরাট সুযোগ ভারত যেমনি পাবে, বাংলাদেশও আথির্কভাবে লাভবান হবে এতে। এ’দিকে লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলেছে। রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, ২০২০ সালের মধ্যে ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইনের কাজ শেষ করা হবে । গ্যাংকারে করে রেলমন্ত্রী নিজে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here