লিজে দেয়া ৭৩ টি ট্রেন রেলওয়েতে ফেরত আনা হবে

0
89

যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে রেলকে লাভজনক করা হবে- রেলপথ মন্ত্রী -সুজন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ, ড্রাইভার, বগি, রেল লাইনসহ বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা সমূহ ব্যবহার করে বেসরকারি লিজ গ্রহিতারা বিশাল অঙ্কের মুনাফা করছে। অথচ রেল কর্তৃপক্ষকে পাওনা টাকা পরিশোধ করছেন না, গড়িমসি করছেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় লিজচুক্তি নবায়ন না করা এবং লিজে নাদিয়ে নিজেরাই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলপথমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এই প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৭৩টি যাত্রীবাহী ট্রেন লিজে বেসরকারি খাতে দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুনে লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এগুলো রেলওয়ে নিজস্বভাবে পরিচালনা করবে। যাত্রী সেবা নিশ্চিত করে সেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি এই ট্রেনগুলো লাভজনক করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, কালোবাজারি অনিয়ম, দুর্নীতিরোধ করাসহ ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করার কাজ চলছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ, ঈশ্বরদী-ঢাকা-চাপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা- গোয়ালন্দঘাট, খুলনা-চাপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুরসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৭৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। প্রতিটি ট্রেনই লাভে চলছে। তার কারণ প্রধানত বেসরকারি লিজ গ্রহিতারা সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা করে থাকেন। ছাপানো টিকিট তারা স্টেশনে এবং ট্রেনের ভিতরেও বিক্রি করে। আসন সংখ্যার বিপরীতে যাত্রী সংখ্যা কত তার তোয়াক্কা করেন না। আসন সংখ্যার দ্বিগুন, তারও বেশি সংখ্যক যাত্রী তারা নেয়। পথিমধ্যে ওঠা যাত্রীদের ও বিনাটিকিটে ভ্রমনকারি প্রত্যেককে ট্রেনের ভিতরে টিকিট কাটতে হয়। টিকিট চেকিং ও টিকিট কাটার ব্যবস্থা থাকায় কালোবাজারির সুযোগ থাকেনা। স্বল্পসংখ্যক স্বল্প বেতনের কর্মী দিয়ে ট্রেন পরিচালিত হয়। রেলের ইঞ্জিন, বগি, জ্বালানি খরচ বাবদ অর্থ ব্যয় করতে হয়না লিজ গ্রহিতাদের। রেলওয়েতে সে সুযোগ নেই। কর্মচারিদের বেতন উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। কর্মচারি স্বল্পতা প্রকট। বৈদেশিক ঋনের সুদ পরিশোধ করতে হয়। রয়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম। যাত্রীদের ট্রেনে টিকিটবিহীন ভ্রমন রোধ করা সম্ভব হয়নি। টিকিট না কেটে ভ্রমনের প্রবণতার পাশাপাশি, ভিতরে চেকিং শতভাগ নিশ্চিত হয়নি। পথিমধ্যে যারা ট্রেনে উঠেন তাদের অনেকেরই টিকিট থাকেনা। ঠিকমত চেকিং হয়না। ট্রেনের ভিতরে টিকিট কাটার ব্যবস্থা থাকলে অনিয়ম, দুর্নীতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
রেলপথমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন দৈনিক কালবেলাকে বলেন, লিজে দেয়া ট্রেনগুলো রেলওয়ের কাছে ফিরিয়ে এনে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা হবে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য সেবা, বাণিজ্য করা নয়। তবে লোকসান দুর্নীতি অপচয়রোধ করে কিভাবে লাভ করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামীতে রেলের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করে রেলকে লাভজনক পর্যায়ে আমরা নিয়ে যাব। লোকোমোটিভ, বগি ও জনবল সংকটের কারনে ট্রেন কাঙ্খিত লাভের মুখ দেখছেনা। এক বছরের মধ্যেই এ পরিস্থিতির অবসান হবে। সময়সূচি রক্ষা করে ট্রেন পরিচালনা, প্ল্যাটফরম, স্টেশন, ট্রেনের ভিতরে উন্নত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যাত্রীদের মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ, কালোবাজারি, বিনা টিকিটে ভ্রমন বন্ধ করাসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here