৫২ ভেজাল পণ্য প্রত্যাহারে হাইকোর্টের নির্দেশ

0
26

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রত্যাহার করে সেগুলো ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হবে যেন তৃতীয় কারও হাতে না যায়। সেইসঙ্গে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে  রুলসহ এ আদেশ দেন। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ৫২টি পণ্য বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় পুনরায় উত্তীর্ণ না হচ্ছে ততক্ষণ এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের মতো খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দ চেয়ে কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার এ রিটটি দায়ের করেন।। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের দুই কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে গতকাল আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই অনুযায়ী গতকাল তারা আদালতে হাজির হন। আদালত সব পক্ষের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন, আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম।
৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্য রয়েছে। এর আগে ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএসটিআই।
বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
যেসব পণ্য প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো:
এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তীর ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, জিবি ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, পুষ্টির সরিষার তেল, রূপচান্দার সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, আরা ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফি ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউ ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আর আর ডিউ ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্র্যান্ডের নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার, প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার
ড্যানিশ ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদের গুড়া, ফ্রেস ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুড়া, প্রাণ ব্র্যান্ডের কারী পাউডার, ড্যানিস ব্র্যান্ডের কারী পাউডার, বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি, পিওর হাটহাজারির মরিচের গুড়া, মিষ্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাই এর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, রূপসা ব্র্যান্ডের দই, মক্কা ব্র্যান্ডের চানাচুর, মেহেদি ব্র্যান্ডের বিস্কুট, বাঘাবাড়ী স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুযুলের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হুলুদের গুড়া, মধুমতি ব্র্যান্ডের আয়োডিন যুক্ত লবণ, সান ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, গ্রীনলেনের মধু, কিরণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন ব্র্যান্ডের মরিচের গুড়া, ডলফিন ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, সূর্য ব্র্যান্ডের মরিচের গুড়া, জেদ্দা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, অমৃত ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবণ, তিনতীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনা, স্টারশীপের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তাজ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, নূর স্পেশালের আয়োডিন যুক্ত লবণ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here