ক্ষতিপূরণ ১০০ কোটি টাকা

0
120

এদিকে গত ২৪শে মার্চ বাংলাদেশস্থ জাইকার প্রতিনিধি সড়ক, মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে দেয়া চিঠিতে বিষয়টির সুরাহা না করে সেতু উদ্বোধন না করার জন্য বলেন। এম আরটি ও মাতারবাড়ি প্রকল্পে ঋন দেয়া নিয়ে দ্বিতীয় চিন্তা করার কথাও জানান হয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সহায়তা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর চলতি সফরকালেও বিশাল অঙ্কের সহযোগিতা দিচ্ছে জাপান। হলি আর্টিজান ঘটনা কেন্দ্রিক যে ক্ষতিপূরন চাওয়া হয়েছে তার যৌক্তিকতা এবং দু’দেশের উন্নত সর্ম্পক বিবেচনায় বাংলাদেশ এ ব্যাপারে জাপানের সাথে সমঝোতায় এসেছে। মন্ত্রী সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর এব্যাপারে জাপানিদের সঙ্গে সমঝোতায় জাপানিরাও সন্তষ্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক : মেঘনা ও গোমতী নদীর উপর নির্মিত দ্বিতীয় সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য ২৫ শে মে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অথনৈতিক লাইফ লাইন হিসেবে বিবেচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এতে  ঈদ ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নতুন গতি এসেছে। আমদানী-রফতানী পণ্য দ্রুত পরিবহন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি লাঘবে এই দুটো সেতু কিছুটা হলেও স্বস্থিদায়ক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।  সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাপানের আর্থিক সহায়তায় কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় ব্রিজ নির্মাণ ও বিদ্যমান ব্রিজ পুনবার্সন প্রকল্প নেয়া হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর চারলেন বিশিষ্ট কাঁচপুর সেতু, দুই লেন বিশিষ্ট ৪শ ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সেতুসমূহ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। মোট ৮ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে ৬ হাজার ৪২৯ টাকা দিচ্ছে জাপান। বাংলাদেশ সরকার যোগান দিচ্ছে ২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। গোমতী ও মেঘনা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করাসহ গোটা প্রকল্পের ভৌত কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৮৬ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৫ শতাংশ। সেতু দুটোর নির্মাণকাজ দু’মাস আগে শেষ হলেও সড়ক  মহাসড়ক ও সেতুমন্ত্রী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় উদ্বোধন কাজ বিলম্বিত হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী জাপানের জাইকা এমন কিছু প্রশ্ন তোলে যা মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ছাড়া নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ১লা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় সংঘটিত ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা ও বিদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা এক অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই জঙ্গি হামলায় র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্টের সাতজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী প্রাণ হারান। এই প্রকল্পের এবং সেতু নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত জাপানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশে আর ফিরে না আসার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। জাপানের বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার পুলিশ, র‌্যাব, জাইকা ও জাপান দূতাবাসের প্রতিনিধিদের যৌথসভার আয়োজন করেন। তাদের সমন্বিত পরামর্শ ভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়। অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেয়াল উচু করা ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি, ক্যামেরা, এলার্ম, আর্চওয়ে, কনট্রোলরুম স্থাপনসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রকল্প সাইটে সার্বক্ষনিকভাবে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়। জাপানি বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাবদ প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। জাপানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই ব্যয়ের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা বাংলাদেশ সরকারকে এই অর্থ বহনের জন্য বলে। তারা আরো জানায় যে, হলি আর্টিজান সন্ত্রাসী ঘটনার কারণে তাদের বাড়তি সময় ব্যয় হয়েছে। এ বাবদ ঠিকাদার বিশ কোটি টাকা দাবি করে। কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজে তাদের পাঁচ মাস বিলম্ব হয়েছে। এই সময় তাদের সমস্ত যন্ত্রপাতি অলস বসিয়ে রাখতে হয়। এজন্য তারা তের কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চায়। তারা মোট ১০০ কোটি টাকা বাড়তি দাবি করে। প্রকল্প ব্যয় বহির্ভূত এই অর্থ প্রদান বাস্তবায়নকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রদান তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত।
এদিকে গত ২৪শে মার্চ বাংলাদেশস্থ জাইকার প্রতিনিধি সড়ক, মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে দেয়া চিঠিতে বিষয়টির সুরাহা না করে সেতু উদ্বোধন না করার জন্য বলেন। এম আরটি ও মাতারবাড়ি প্রকল্পে ঋন দেয়া নিয়ে দ্বিতীয় চিন্তা করার কথাও জানান হয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সহায়তা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর চলতি সফরকালেও বিশাল অঙ্কের সহযোগিতা দিচ্ছে জাপান। হলি আর্টিজান ঘটনা কেন্দ্রিক যে ক্ষতিপূরন চাওয়া হয়েছে তার যৌক্তিকতা এবং দু’দেশের উন্নত সর্ম্পক বিবেচনায় বাংলাদেশ এ ব্যাপারে জাপানের সাথে সমঝোতায় এসেছে। মন্ত্রী সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর এব্যাপারে জাপানিদের সঙ্গে সমঝোতায় জাপানিরাও সন্তষ্ট।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here