দুর্নীতির মহোৎসব চলছে গুচ্ছগ্রামে

0
91

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। গরিব দু:স্থদের বদলে ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মচারি ও প্রতিনিধিদের। তাদের অনিয়ম দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন ভাগ্য বিড়ম্বিত সহায় -সম্বলহীন মানুষেরা। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প গুচ্ছগ্রাম। বাস্তবায়নকারি কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতির কারনে সরকারের একটি উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রতিবছরই জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এদের পুর্নবাসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেনা বাংলাদেশ। তারপরও সরকার ভূমিহীন, নদী ভাঙ্গনের শিকার গৃহহারা মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়া ও আর্থিকভাবে          বেঁচে থাকার মত      সহযোগিতারর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খাস জমিতে তাদের পুনর্বাসনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থদের  চাহিদার তুলনায় তা অপর্যাপ্ত।
সারাদেশে ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের জন্য ৯৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। কয়েকটি অঙ্গ বেড়ে যাওয়ার এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার ৩৪০ কোটিতে উন্নীত করা হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বসতভিটা, পুকুর খনন, সংযোগ সড়ক তৈরি, আধাপাকা ঘর, রান্নাঘর, মহিলাদের পৃথক স্যানিটারি ল্যাট্রিন, টিউবওয়েল, পুরুষদের জন্য স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বিদ্যুৎ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখা হয়। পরিবার প্রতি আরসিসি পিলারের উপর দুই কক্ষের ঘর, পাঁচ রিংয়ের স্যানিটারি ল্যাট্রিন করার কথা। কিন্তু নিম্নমানের ইট দিয়ে পিলার, পাঁচ রিংয়ের স্থলে তিনটি রিং দিয়ে স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করা হয়। নলকূপ বসানোর কথা ছয়শ ফুট গভীরে। বাস্তবে বসানো হয় দেড়শ ফুট গভীরে। গ্রীষ্মকালে নলকূপ থেকে পানি উঠেনা। গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ নলকূপই অকেজো হয়ে আছে। পুকুর খননে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বসত ভিটা উচু করা, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, পুকুর কাটার কাজ করা হয় টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প কমিটির প্রতিনিধি, ঠিকাদারদের নিয়ে কমিটি করা হয়। এই কমিটিই টিআর, কাবিখার চাল নিয়ে মাটির কাজ করে থাকে। এই মাটির কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বসতবাটি নির্ধারিত হারে উচুঁ করা হয়না। অভিযোগ রয়েছে পুকুর খনন কাজে চলছে পুকুরচুরি। বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখার বিপরীতে প্রতিটনে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয় প্রকল্প কর্মকর্তাকে। ঘর নির্মাণে দিতে হয় দশ হাজার টাকা। প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিতে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেননা।
জানা যায়, গুচ্ছগ্রামের প্রত্যেক পরিবারকে সরকার থেকে এককালীন পনের হাজার টাকা দেয়া হয়্ আত্মকর্মসংস্থানমূলক  কাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই অর্থে স্বল্পপুঁজির ব্যবসা ও আয়বর্ধক কর্মকান্ড চালানোর জন্য। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হলেও অধিকাংশ গুচ্ছগ্রামেই তা নেই। প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ভুমিহীনদের পুনবার্সন সংক্রান্ত তথ্য অধিদপ্তরে দেয়া হয়। যার সাথে বাস্তবের মিল নেই। সরকারকে তারা ভূয়া তথ্য দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীন পরিবারগুলো গুচ্ছগ্রামে চলমান এই অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিকার পাচ্ছেন না। কেউ বাড়াবাড়ি, প্রতিবাদ করলে বসতভিটার বরাদ্দ বাতিল করার হুমকি দেয়া হয়। সরকারের একটি অত্যন্ত মহৎ প্রকল্পের সুফল থেকে কিছু সংখ্যক অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারির কারনে বঞ্চিত হচ্ছে সর্বস্বহারা মানুষগুলো।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here