ঈদ যাত্রায় ১২৭ দুর্ঘটনায় নিহত ১৮৪

0
48

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৩২ জন।  সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১২৭। গত ২৯ মে থেকে ০৮ জুন এই ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে যা ২০১৮ সালের তুলনায় কম বলে নিরাপদ সড়ক চাইর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।  বিভিন্ন পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।  পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এবার সড়কপথে ঈদযাত্রা ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। নৌপথে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াও ঈদযাত্রা ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক। যেমন ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এতে করে একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পানিতে পড়া ও অনেকে টিকিট থাকা সত্ত্বেও লঞ্চে উঠতে পারেন নি। এসব বিষয়ে আগামীতে নজর দিলে নিসচা মনে করে নৌপথও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে। পাশাপাশি অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রেলের যাত্রীদের কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এ বছর ঈদ উল ফিতরের সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ী চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করছে।  ঢাকা-টাঙ্গাইল রোড ৪ লেনে উন্নীত হওয়ায় উত্তর বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে নবনির্মিত তিনটি সেতু (কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী) খুলে দেওয়ার ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যানজট হয়নি বললেই চলে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এসকল অঞ্চলে তুলনামুলকভাবে কম হয়েছে। তবে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার দিক দিয়ে এবারের ঈদে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সড়কে মোটর সাইকেল বিধ্বংসী বাহন হয়ে উঠেছে চালকের খেয়ালীপনাসহ নানা কারণে। এই ঈদে গণমাধ্যমের সংবাদে সেই চিত্রটিই উঠে এসেছে। সড়কে যখনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সমন্বিত উদ্যোগ চলছে তখন মোটর সাইকেলের দৌরাত্ম ও এর চালকদের বেপরোয়া হয়ে উঠায় ভাবতে হবে সকল মহলকে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মোটর সাইকেল সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার আগে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভাবতে হবে, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট মহলেরও ভাবতে হবে। কারণ এবার ৪৫টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩৮জন (চালক ও আরোহী)। যাতে আমরা শংকিত। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাস।  ঈদের সময় সিডিউল রক্ষা করতে গিয়ে বাসগুলো অতিরিক্ত গতিতে বেপরোয়া ভাবে চালানোর কারণে এ সমস্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে সবদরণের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিসচার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের এসব অনিয়ম বন্ধে তৎপরতাও চোখে পড়েছে।
তবে আশংকার কথা হচ্ছে উবার ও পাঠাওর মত ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিং করা বাহনগুলোর সেচ্ছাচারিতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এ্যাপের কলিংয়ে সাড়া না দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহনের প্রবণতা তাদের মাঝে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বিআরটিএর চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব বন্ধের এবং মনিটরিংয়ের আহবান জানান। তিনি আশংকা ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যদি এসব সেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা না হয় তাহলে সিএনজি চালকদের মত এরা বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এতে করে যাত্রীদের বিড়ম্বনাও বেড়ে যাবে।
আশার কথা হচ্ছে এবার ঈদ যাত্রায় নিসচার সারাদেশের অধিকাংশ শাখা নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সাথে সড়ক ও মহাসড়কে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলে সেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করে। এতে করে যানজটপ্রবণ অনেক এলাকায় যানজট দেখা যায়নি। নিসচা চেয়ারম্যান এসব সড়কযোদ্ধাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন সড়কে মোটর সাইকেলের দৌরাত্ম্য ও সেচ্ছাচারিতা বন্ধে মোটর সাইকেল চালকদের দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন কোর্স চালু ও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছেন। তিনি মোটর সাইকেল কিনতে গেলে এই কোর্সের সাটর্টিফিকেট প্রদর্শণ বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর পক্ষ থেকে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরোও সচেতন, সাবধান ও সতর্কতা অবলম্বনেরও আহবান জানানো হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here