আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই বাজেট করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

0
75

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশ ধরে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায়, এ সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেট উপস্থাপনেও অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রাম যেন উন্নত হয়, সেখানকার মানুষ যেন শহরের মানুষের সুবিধা পায়, সেজন্য আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচির আলোকে পল্লী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশজুড়ে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নতুন সড়ক এবং ৩০ হাজার ৫০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। সেজন্য এখাতে আগামী অর্থবছরে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দেশের বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ সময়ের মধ্যেই এসডিজি অর্জন করা হবে। সেই লক্ষ্যেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশেকে দারিদ্র্য মুক্ত করা, উন্নত করা, সমৃদ্ধশালী করা এবং স্বাধীনতার সুফল পাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগে বাইরে গেলে বাংলাদেশকে কেউ চিনতো না। এখন আমাদের সবাই চেনে। এটাই আমাদের বড় পাওনা।’ তিনি জানান, বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রণোদনা থাকবে। কৃষি ভুর্তকি, ঋণ ও কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনাও থাকবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবির প্রেক্ষিতে বন্ধ থাকা এমপিওভুক্তির কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে চিকিৎসা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৮টি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট খোলা হবে। বিদ্যুৎখাতে সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আমরা অর্জন করবো।
সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য যে যুদ্ধ, সেটাই সোনালি যুদ্ধ। দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য লক্ষ্যে যে যুদ্ধ, সেটিই সোনালি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ কোনও অকল্যাণের যুদ্ধ নয়। সমালোচকদের সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, যাদের মানসিকতা অসুস্থ তাদের কিছুই ভালো লাগে না। সব কিছুতেই তারা কিন্তু খোঁজে। তারা কী গবেষণা করেন আমি জানি না। একটা কিছু বলতে হবে। তাই বলেছে। এটা একটা অসুস্থতা।
সিপিডির নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ খুশি কিনা তা দেখতে হবে। এটা আমাদের ১১তম বাজেট। যতটুকু আমি বলেছি তার থেকে অনেক বেশি কিছু রয়েছে বাজেটে। ভালো না লাগা পার্টি যারা তাদের কোনও কিছুই ভালো লাগবে না। উনাদের সেই অসুস্থতা। ভালো সমালোচনা করলে আমরা গ্রহণ করবো আর মন্দ কথা বললে ধর্তব্যে নেবো না।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবছর পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামী বছর শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি খাতের উন্নয়নে ২০ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় সংসদে প্রতি বছর বাজেট পেশসহ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দেশের অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এ বছর শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট বক্তৃতার পুরোটা পাঠ করতে পারেননি। পরে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট বক্তব্য পড়ে দেন। সংসদ থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে চলে যান অর্থমন্ত্রী। এ কারণে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন হয়। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। এক জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।
বেকার লোকের অভাবে মূল্য বেড়েছে শ্রমের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন কাজের লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের চাহিদা বেড়েছে। বেকার লোকের এই অভাবের কারণেই শ্রমের মূল্য বেড়েছে।
বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান বলতে চাকরী নয়। ব্যবসায় বাণিজ্যও বুঝায়। এখন দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান আছে। আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে কর্মক্ষম করেছি। এই তো কিছু দিন আগে ধান কাটার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আপনারই পত্রিকায় লিখেছেন। ধান কাটার লোকের অভার হচ্ছে।
সব মানুষকে তো চাকরি দেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে কি চাকরী দেওয়া যায়। পৃথিবীর কোন দেশই কি সব মানুষকে চাকরি দিতে পারে। আমরা চাকরি কথা বলিনি। বলেছি কর্মসংস্থানের কথা।
আগামীতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০০ প্রজেক্ট তৈরী করেছি। এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। শ্রমের মূল্যের বেড়ে গেছে। বেকার লোকের অভাবে শ্রমের এ মূল্য বেড়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি কর্মসংস্থান
২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি একথা জানান। তিনি বলেন, এই কর্মসংস্থান সৃষ্ট  হলে দেশে বেকারত্বের অবসান ঘটাবে। তিনি আরোও বলেন, দেশে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। যুবকদের মধ্যে সকল প্রকার ব্যবসার উদ্যোগ (স্টার্ট আপ) সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এবছর পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামী বছর শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়নে ২০ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।  নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদে প্রতি বছর বাজেট পেশসহ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দেশের অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এ বছর শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট বক্তৃতার পুরোটা পাঠ করতে পারেননি। পরে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট বক্তব্য পড়ে দেন। সংসদ থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে চলে যান অর্থমন্ত্রী। এ কারণে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেন।
উত্তারাঞ্চলে মঙ্গা শব্দটা আর নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উত্তরাঞ্চলে আর মঙ্গা হয় না। সেখানে মঙ্গা বলে কোনো শব্দ নেই।  বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। উত্তারাঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। সেখানে আর মঙ্গা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ঐ অঞ্চলে মঙ্গা শব্দটা নেই। উত্তরা ইপিজেড আমার হাতেই হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ আমারই হাতে হয়েছে। তিনি বলেন, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমারই হাতে নির্মিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ও রেল পথ আমারই করা। বিমানবন্দর চালু করেছি। স্থলবন্দর চালু করেছি।
উত্তারাঞ্চলে এডিপি কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এটা ঠিক নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে এডিপি কম বরাদ্দ হয়নি। এখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কম হয়নি। আরও হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here