বাজেটে ব্যাংকিং খাতের সমস্যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি : সিপিডি

0
33

নিউজ ডেস্ক : বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ঠিক হয়নি। অঘোষিত আয় আর বেআইনি আয় আলাদা করা উচিত ছিল। গতকাল সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০ সিপিডির পর্যালোচনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক খাতের সমস্যা নিয়ে বাজেটে আলোচনা আছে কিন্তু কর্মপরিকল্পনা নেই। ব্যাংকিং খাতের সমস্যাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ঘাটতি পূরণে গতানুগতিক হিসাব মেলানো হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে চাপ তৈরি করতে পারে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সংস্কার ও নীতি যথেষ্ট নয় বলেও মনে করে সিপিডি। দেবপ্রিয় বলেন, ‘রাজস্ব আদায়টা একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। সেই কঠিন বাধাকে অতিক্রম করতে পারবে? সেটার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয়ত, আমরা বলেছিলাম ব্যাংকিং খাত। আয়-ব্যয় কাঠামোর ভেতরে, আর্থিক খাতের ভেতরে গেলে আরো দেখতে পাবেন, ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা বাড়বে। এবং সেই ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ক্ষেত্রে সরকার আরো বেশি নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছে আগামী অর্থ বছরে। সেইখানেও কিন্তু নতুন অর্থবছরে আমরা কিছু পাচ্ছি না।’ বাজেটে ধনীদের বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজেটে স্বচ্ছল ও উচ্চবিত্তকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রান্তিক সুবিধা। এই বাজেটে মধ্যবিত্তের খুব বেশি সুবিধা হবে না। বাজেট অপশাসনের সুবিধা ভোগীদের পক্ষে গেছে। অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলোকে বাজেটে তুলে ধরা হয়নি এবং সমাধানের কোনো আভাস দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকারী টাকায় অবকাঠামো নির্মাণ করে জিডিপি বাড়ানোর চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক ধারনা। এটা অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার তৈরি করছে। একইসঙ্গে খাতওয়ারী বরাদ্দের দিক থেকে বাজেট ভারসাম্যহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। দেবপ্রিয় আরও বলেন, বাজেট নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী হয়নি। তথ্য ও উপাত্তের গরমিল রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক যে চাপ চলছে বাজেটে তার কোনো স্বীকৃতি নেই। বাজেট দেওয়ার সময় যে অভিনব কায়দা ছিলো বাজেটের তথ্য উপাত্তে তা পাওয়া যায়নি।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ সেøাগানসংবলিত বাজেট পেশ করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এ ছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here