পুলওয়ামার কায়দায় ফের হামলা হতে পারে কাশ্মীরে

0
71

এবার সতর্ক করল পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক : জঙ্গি হামলায় ফের রক্তাক্ত হতে পারে কাশ্মীর, তা নিয়ে ভারতকে আগাম সতর্ক করল পাকিস্তান। এ বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আইইডি বোঝাই গাড়ি নিয়ে সিআরপি কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সেই একই কায়দায় এ বার দক্ষিণ কাশ্মীরের অবন্তীপোরায় হামলা হতে পারে বলে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনকে জানিয়েছেন পাক গোয়েন্দারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। আর তার পরই গোটা উপত্যকা জুড়ে কড়া সতর্কতা জারি হয়েছে।
সম্প্রতি কিরঘিজস্তানের বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে সন্ত্রাস দমন নিয়ে কড়া বার্তা দেন মোদী। এমনকি, নাম না করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে তার আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনকে হামলার সম্ভাবনার কথা জানানো হয় বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সেনবাহিনীর এক আধিকারিক জানান, ‘‘ইসলামাবাদে আমাদের হাই কমিশনকে হামলার সম্ভাবনার কথা জানায় পাকিস্তান। আমেরিকাকেও বিষয়টি জানায় তারা, যার পর মার্কিন গোয়েন্দারাও আমাদের সতর্ক করে দেন।’’
সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে উপত্যকার জঙ্গি জাকির মুসার মৃত্যুর বদলা নিতেই জঙ্গিরা নতুন করে হামলা ছক কষছে, এমন তথ্য হাতে এসেছে বলেও জানান ওই আধিকারিক। দীর্ঘদিন ধরে উপত্যকায় নাশকতামূলক কাজকর্মে যুক্ত ছিল জাকির মুসা। ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদিনের দায়িত্বে আসে সে। তবে ২০১৭ সালের মে মাসে হিজবুল ছেড়ে বেরিয়ে আল কায়দার আদর্শে অনুপ্রাণিত জঙ্গি সংগঠন আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের  নেতৃত্বে  আসে সে। তবে গত মাসে কাশ্মীরের ত্রালে সেনা অভিযানে মৃত্যু হয় তার।
জাকির মুসার মৃত্যুর পরই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় গাজওয়াত-উল-হিন্দ সংগঠনটি। জাকিরের নেতৃত্বে বহু অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে তাতে যোগ দিলেও, এই মুহূর্তে ওই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা দু’-তিন জনে এসে ঠেকেছে বলে দাবি উপত্যকা পুলিশের। তা সত্ত্বেও হামলার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ পুলওয়ামায় হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি অনন্তনাগে সিআরপি জওয়ানদের উপর হামলা করে দুই জঙ্গি। তাতে প্রাণ হারান পাঁচ জওয়ান। গুলি বিনিময় চলাকালীন এক জওয়ানের মৃত্যু হলেও, আর একজন এখনও পর্যন্ত অধরাই।
তবে পাকিস্তানের তরফে এ ভাবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভারতকে সতর্ক করার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের দাবি, পুলওয়ামা হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। বালাকোটের পর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতে ফিরিয়ে দিলেও,আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে হয়ে পড়ে তারা। এমনকি চিনও হাত তুলে নেয়। মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি ঘোষণায় সায় দেয়।  এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের মুখ রক্ষা করতেই আগে ভাগে ভারতকে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান, যাতে বড় কিছু ঘটলেও দায় এড়াতে পারে তারা। আবার সন্ত্রাস দমনে তারা পদক্ষেপ করছে না বলে, কেউ অভিযোগও না তুলতে পারে।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক আবার দাবি করছেন, জাকির মুসার সংগঠনের সঙ্গে আল কায়দা যোগ রয়েছে বলেই এত উদ্যোগী পাকিস্তান। ৯/১১ হামলার মূলচক্রী তথা প্রাক্তন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের হদিশ মিলেছিল সে দেশেই। পাছে ফের তাদের উপর চটে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাই আগে ভাগে ভারতকে সতর্ক করতে এগিয়ে এসেছে তারা। তবে এই সতর্কবার্তা একেবারেই হালকা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here