দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এলো মধুমতির পরিশোধিত পানি

0
45

রীতা রানী, খুলনা : দীর্ঘ ৭ বছর প্রতীক্ষার খুলনা মহানগরীতে এসেছে মধুমতি নদীর পরিশোধিত পানি। গত ২০ জুন মধুমতি নদী থেকে পানি এনে রূপসার সামন্তসেনা রিজার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। ২৫ জুন সেই পানি পরিশোধন করে রূপসা নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে খুলনা নগরীতে আনা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের জন্য নির্মাণ করা লবণচরা ও ছোট বয়রা রিজার্ভারে প্রায় দুই কোটি লিটার পানি রাখা হয়েছে। শনিবার একইভাবে নতুন বাজার রিজার্ভারে পানি আনা হয়েছে। তবে পরিশোধিত পানি নগরীতে আসলেও এখনই তা গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগের তীর ছুড়েছেন ওয়াসা কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, ৩১ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহকদের পানি দিতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু বাড়ি বাড়ি সংযোগ ও মিটার স্থাপনে গ্রাহকদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। গত ঈদের পর থেকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হলেও ৩১ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক এলাকার গ্রাহক এখনো ওয়াসার মিটারের টাকা পরিশোধ করেননি। অনেকে পাইপলাইনে গৃহ সংযোগ (হাউজ কানেকশন) দিতে সময়ক্ষেপণ করছেন। যার কারণে সার্বিক কাজ পিছিয়ে পড়ছে।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকরা দ্রæত টাকা পরিশোধ, মিটার ও সংযোগ নিতে সহযোগিতা করলে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৮ হাজার গ্রাহক এই পানি পাবেন। পরবর্তীতে জুলাই মাসের শেষে ২৪, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পানি যাবে। পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডে পানি পৌঁছাবে।
ওয়াসা থেকে জানা গেছে, খুলনার মানুষের পানি সংকট নিরসনে ২০১১ সালে পানি সরবরাহ প্রকল্প শুরু করেছিলো ওয়াসা। মধুমতি নদী থেকে পানি এনে রূপসার সামন্তসেনায় পরিশোধন করে তা নগরীতে সরবরাহ করার কথা ছিলো। এজন্য ২০১৫ সাল থেকে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করে ওয়াসা। নদীর পাশে সড়ক খুঁড়ে বসানো হয় বিশাল আকারের পাইপ। নগরীর ওলিগলিতে বসানো হয় পাইপ। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় নতুন পাইপ লাইন। এমন কর্মযজ্ঞ আগে দেখেনি খুলনার মানুষ। এতে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়েছে নগরীর মানুষ। অন্যদিকে অপেক্ষায় থেকেছে কবে নাগাদ এই পানি পাওয়া যাবে। ৭ বছর পর এই প্রতীক্ষা শেষ হয়েছে। আর এই কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। জাইকা ও এডিবি এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে।
প্রকল্প পরিচালক এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে মোল্লাহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে রূপসা উপজেলার সামন্তসেনায় পরিশোধন করা হবে। এরপর রূপসা নদী অতিক্রম করে সেই পানি নেওয়া হবে খুলনার মহানগরীর ১০টি এলাকায়। সেখান থেকে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরবাসীকে দেওয়া হবে। সব কাজই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
ওয়াসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক খান সেলিম আহমেদ বলেন, রূপসা নদী অতিক্রম করে দুটি রিজার্ভারে পানি আনা হয়েছে। আরও একটি রিজার্ভারে পানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার পাইপলাইন পানির চাপ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে এখনও কোথাও কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। বাকি রিজার্ভারেও ধীরে ধীরে পানি পৌঁছে যাবে। সেখান থেকে গ্রাহকদের বিতরণ করা হবে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে আমরা ৮টি জোন ও ৬৬টি মিটারিং এরিয়ায় ভাগ করেছি। নগরীর ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ৮টি মিটারিং এরিয়া নিয়ে জোন-১। এখন এই দুটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়িতে মিটার বসানো এবং পানির সংযোগ তার রিজার্ভ হাউজে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, এই কাজটা সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ। সমস্যা হচ্ছে এই কাজে গ্রাহকদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, অল্পকিছু গ্রাহকের কারণে পুরো এলাকার কাজ আটকে থাকছে। তারপরও আমরা তাদের বুঝিয়ে দ্রæত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আশা করা যাচ্ছে, ৫/৬ জুলাইয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের প্রকল্পের পানি দেওয়া যাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here