রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে খালাসি নিয়োগে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ

0
27

মোহাম্মদ আলী হৃদয়, চট্টগ্রাম:  বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে খালাসি নিয়োগে ব্যাপক নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অনিয়ম দুর্নীতির কারণে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় উর্ত্তীণ প্রার্থীদের নাম পর পর কাটাকাটি করে অকৃতকার্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রাতারাতি ৮৬৩ জন খালাসি নিয়োগ দিতে গিয়ে তালিকায় এক র্প্রার্থীকে দুই জেলা থেকে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। একইসাথে ৫০ বছর বয়সী এক জনকে ২৮ বছর দেখিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার অফিসের কর্মচারীর আত্মীয় বলে জানা গেছে। এছাড়া রেলে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নিয়ম থাকলেও এ নিযোগের ক্ষেত্রে কোন ধরনের কোটা মানা হয়নি। যার কাছ থেকেই টাকা পাওয়া গেছে তার নাম নিয়োগের চুড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, একাধিক প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেলের খালাসী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্ত করে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিয়োগ কমিটিতে থাকা সদস্যদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই নিয়োগের অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য নানানভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে দুদকের তদন্দ কর্মকর্তা একটি বিষয়ে পরিস্কার হয়েছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানে আরো চাঞ্চল্যকর কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংস্থাপন শাখা (রাজস্ব) থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আবেদনকারীদের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। খালাসী নিয়োগ পরীক্ষায় ৫ সদস্যের নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। নিয়োগ কমিটির আহবায়ক করা হয় রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে আরটিএ’র সিনিয়র ট্রেনিং অফিসার জোবেদা আক্তারকে। অপর ৩ সদস্য হলেন এম.এ জিন্নাহ, রফিকুল ইসলাম ও শেখ খলিলুর রহমান। তবে এর মধ্যে কমিটির সদস্য এম.এ জিন্নাহ মারা যান এবং শেখ খলিলুর রহমান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বদলি হন। ৫ সদস্যের নিয়োগ কমিটির মধ্যে ২ জন ছাড়া অবশিষ্ট ৩জন মিলে সিআরবিতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাতে বসে নিজেদের মধ্যেই ভাগাভাগি করে এসব নিয়োগ দেন। এ ক্ষেত্রে সদস্য সচিবের এক পিয়নই (বর্তমান পদোন্নতি পেয়েছেন) ছয় জন প্রাথীর তদ্বির করেছেন বলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিআরবি অফিসের একাধিক সূত্র দাবী করেছেন।
প্রতিদিন রাতে সিআরবিতে থেকে নিয়োগ কমিটির ৩ কর্মকর্তা এবং জিএমসহ বের হতে দেখেছেন পরিবহন ও প্রকৌশলী বিভাগের দুই কর্মকর্তা। এর কিছুদিন পরই বহুল আলোচিত এই নিয়োগ কমিটি সময়-সুযোগ বুঝে ৮৬৩ জন খালাসীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, অনুসন্ধানে যেসব অনিয়ম পাওয়া গেছে তা কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিয়ে দেবো। তিনি জানান, রেলের শুধু খালাসী নিয়োগে নয় প্রতিটি নিয়োগেই দুর্নীতি হয় বলে আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে অভিযোগ আসে। এছাড়াও এর আগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত চলছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here