৭৭৭ কোটি টাকায় ২ লাখ ৯৭ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্রয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের তৎপরতা

0
62

নিজস্ব প্রতিবেদক : পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪টি টিএসপিসি পোল চিনকে যাচ্ছে। এইসব খুঁটি দিয়ে দেশের পনের লক্ষ বিদ্যুৎহীন মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করছে। ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এখন তের হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকার তা আগামী তিন বছরের মধ্যে চব্বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি অর্থবছরেই প্রর্কপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, বিদ্যুতের পোল কেনার জন্য আহুত টেন্ডারে বিভিন্ন কোম্পানি অংশ নেয়। দরপত্রে অংশগ্রহণকারী পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে প্রথম লটে সর্বনিম্ন হয় গ্যামন লিঃ। মোট পাঁচটি লটে সমস্ত পোল কেনা হবে। গ্যামনের রেট ১৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রিস্ট্যাসড পোল লিঃ-এর রেট ১৯২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় লটে সর্বনিম্ন দরদাতা কনটেক কনস্ট্রাকশনের রেট ১৮৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এই লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন কোম্পানি পোলস এ্যান্ড কনক্রিট লিঃ-রে রেট ১৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত দুটি লটেই সর্বানিম্ন দরদাতার স্থলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যাপারে একটি মহল তৎপর রয়েছে। অথচ দামের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতার মধ্যে বড় অংকের ব্যবধান রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উচ্চহারে পোল কেনার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়েরই একটি প্রভাবশালী মহল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতার পক্ষে নানা যুক্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর প্রবল বিরোধিতার কারণে তারা সুবিধা করতে পারছেন না।
জানা যায়, তৃতীয় লটের সবনিম্ন দরদাতা হচ্ছে ইলেকট্রোপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ। এদের রেট ১৮৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এই লটের দ্বিতীয় সর্বনিম্নস্থানে রয়েছে চক্র এসপিসি নামক একটি কোম্পানি। এদের রেট ১৯৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চতুর্থ লটে সর্বনিম্ন দরদাতার রেট ১৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা কোম্পানির রেট ১৯২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রভাবশালী মহলটি নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পক্ষে। কিন্তু বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, সর্বনিম্ন ও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরে বড় রকমের ব্যবধান নেই। তাছাড়া নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে। দামও বেড়ে যেতে পারে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here