আরমেনিয়া || টু ম্পা ত র ফ দা র

0
16

আমি আবির।  আডডাবাজ আবির।  হুম যাদেরকে আসলেও বখাটে বলা যায় । বন্ধুমহল প্লে বয় হিসেবেই জানে।  তবে খুব কাছের বন্ধুগুলি আমার এ রুপ টা জানে।  যারা কাছের নয় তারা একটু ভদ্র ভাবেই জানে আমাকে।  আমি আবার সবার সাথে অভদ্র হইনা।  অভদ্র কেবল ২ গ্রæপে।  এক আমার কাছের বন্ধু আর এক আমার ভালবাসার মানুষ।  একদা একসময় প্রচুর গার্লফ্রেন্ড এর ভিড় ছিল তবে আস্তে আস্তে এই অভ্যাসটা বদলে দিয়েছি।  এখন আমার একজন ই ভালবাসার মানুষ মিলি।  তবে মিলির সাথে দেখা হওয়ার আগেও আমার একসাথে অনেক গুলা প্রেম একসাথে চলত। আমি কখনো কোন মেয়ের প্রতি সিরিয়াস হইনি।  তবে সিরিয়াস হওয়ার মত কাউকে পাইওনি। কিন্তু আমার এত গুলি কনফিডেন্ট এর ধাচিয়া উড়িয়ে দেয় আমার জীবনের একটি রাত।  যে রাত আমাকে আমাকে ভিলেন করে তোলে।
প্রতিদিনের মত আড্ডা দিতে গেলাম সন্ধ্যায়।  বন্ধুরা সবগুলি ধানমন্ডি লেক এ অপেক্ষারত। হঠাৎ  ফয়সালের কল।
কল রিসিভের শুরুটাই গালি দিয়ে..! কিরে আবির আর কতদুর তুই? শালা বইসা আছি তোর জন্য।  আমিও হাসতে হাসতে বললাম এইতো এসে পড়ছি।  সন্ধ্যা সময়টায় আমি ফয়সাল,তুলি, বিল্লাল আর রেনু এদের আড্ডা চলে।  যেতেই তুলি পায়ে একটা লাত্থি দিয়ে বলল, কিরে কার সাথে ছিলি?  মিলির সাথে নাকি রে?  গার্লফ্রেন্ড পাইলে আর তোর কিছু লাগেনা তাইনা?  আমিও হাসতে হাসতে বললাম,আরে ধুর… জানিস ই তো আমি ভালবাসায় বিশ্বাসী না, প্রেমে বিশ্বাসী।  সাথে সাথেই রেনু বলে উঠল, তাই নাকি?  তাহলে তোর প্রেমের একটা পরিক্ষা নেয়া দরকার কি বলিস?  আমি বললাম,কেমন পরীক্ষা? রেনু তার চেয়ার থেকে আমার দিকে এসে বলল, আমার কাজিন আছে, বাহিরে থাকে,সে বেড়াতে আসছে। ওর জণ্য অনেক ছেলেরা ফিদা।  তুই যদি ওকে তোর বিছানায় নিতে পারিস তবে মেনে নিব তুই আসলেও একটা চিজ? আমি রেনুর দিকে ভ্রæ কুচকে তাকিয়ে বললাম, যদি পারি কি দিবি আমাকে তোরা?  বিল্লাল তখনি বলে উঠল,আবির তুই যদি পারিস তবে তোকে আমরা সবাই ১০০০০ করে টাকা দিব।  কি রাজি?
আমি হাসতে হাসতে বললাম, আরে রেডি রাখ।  আমি পারবো ।  রেনু হেসে দিয়ে বলল, মেয়ের কিন্তু ৯ বছরের রিলেশন বিএফ এর সাথে।  পারবি কিনা আবার ভাব। আর যদি না পারিস তোর আমাদের টাকা দিতে হবে।  আমি খুব ভাব নিয়ে বললাম, আবির পারেনা এমন কিছু নেই।  এই বলে আবার সবাই অন্য কোন টপিক নিয়ে কথা বলা শুরু করলাম।  আড্ডা শেষ করে আমি হাটা শুরু করলাম বাসার দিকে। বাসায় পৌছে খুব ক্লান্ত হয়ে বসলাম বারান্দায়। ঠিক ওই সময়টাতে মিলির কল।  রিসিভ করতেই মিলি ওপর পাশ থেকে বলে উঠল,কি ব্যাপার?  তুমি কই? এতক্ষন হয়ে গেল আমার কথা কি মনে পরেনা?  আবার সেই প্রতিদিনের ন্যায় তার কান্না, তার চিল্লাচিল্লি। আমি জানি সে আমাকে অনেক ভালবাসে কিন্তু ইদানিং আমাদের মধ্যে কোন কিছু ঠিক চলছিলনা।  আমি খুব রাগ দেখিয়ে কল টা কেটে দিলাম।  এরপর ওই আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম অনেকটা সময়।  হঠাৎ মনে পড়লো ওই মেয়েটার কথা, বাজির কথা।  ভাবতে শুরু করলাম কিছুদিনের জন্য ইঞ্জয়মেন্ট হবে।  এসব ফালতু জিনিস ভাবতে ভাবতে ঘুমোতে গেলাম।
পরদিন আবার ও সন্ধ্যায় গেলাম আড্ডা দিতে।  রেনু শুধু মিসিং? আর সবাই আসছে।  বিল্লাল বলে উঠল,কিরে রেনু আজ এলোনা এখনো। তার সেই বিদেশি কাজিন কে আনতে দেরি হচ্ছে নাকি রে?  কথাটা বলার কিছুক্ষন পরেই রেনু হাজির।  তার পিছনে আরেকজন আসছে। অপূর্ব…  আমি তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে, এলোমেলো চুল, লাল লিপস্টিকে তার ঠোট, চোখের পাতাগুলি যেন পাগল করে দেবার মত।আমার দিকে এগিয়ে এসে রেনু বলে উঠল, আবির এই হচ্ছে আমার কাজিন।  আরমেনিয়া। আরমেনিয়া?  আমি নামটা প্রথম শুনলাম।  কিন্তু অস্থির নাম।
রেনু তখনি বলে উঠল,এবার কি শুধু তোর সাথে ই পরিচয় করাবো নাকি!
আমি বললাম,আরে না!
আরমেনিয়া মুচকি হেসে বলল,সবাই কেমন আছেন?  আমি আরমেনিয়া।
আমি সাথে সাথেই বলে ঊঠলাম, হুম আপনার নাম তো প্রেমে পডার মত।  সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলে উঠল,ধন্যবাদ, তবে প্রেমে না পড়াটাই ভাল।
সবাই তখন খিলখিল করে হাসি দিয়ে বলে উঠল, আবির তোর গেইম এই মেয়ের উপর চলবেনা। বুঝলি?
আমিও আরমেনিয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম, সবার উপর ই ম্যাজিক কাজে লাগে শুধু পারফেক্ট মানুষ দরকার।  কথাটা শোনার সাথে সাথেই আরমেনিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,আমার জন্য পারফেক্ট মানুষ আছে,..
আমিও তার কথা শুনে হেসে দিলাম। সেদিন আরমেনিয়ার সাথে কথা বলে এটুকু বুঝেছিলাম সে সহজে পটবার মত মেয়ে নয়। যাইহোক সেদিনের আড্ডা শেষ করে সরাসরি গেলাম বাসায়।  বাসায় পৌছতেই রেনুর কল।
রেনু- কিরে?  কি মনে হল?  পারবি?  নাকি হার মানবি?
আমি- অপেক্ষা কর, আবির কখনো হার মানে না।  তোর কাজিন আমার সাথে প্রেম করবেই। রেনু- শুন, প্রেমই করবি আবার ভালবাসিস না। কারন তুই যদি ভালবাসিস তবে কিন্তু বাজি হারবি। আমি- পাগল নাকি তুই? ভালবাসা আর আমি?
এইবলে রেখে দিলাম কল টা।  কল কেটে এককাপ চা হাতে নিয়ে আবার বসলাম বারান্দায়।  মিলির সাথে কথা হইনি ঝগড়ার পর।  সে ও সারাদিন ট্রাই করে নি।  তাই আমি ই কল দিলাম, এরপর আর কি?  সারারাত তার সাথে কথা বলতে বলতেই পার।  পরদিন সকাল সকাল বিল্লাল এর কল।  ঘুম ঘুম চোখে  কল টা রিসিভ করতেই, বিল্লাল কেদে কেদে বলে উঠল, বন্ধু আব্বা এক্সিডেন্ট করেছে। বøাড লাগবে এ +।  তাড়াতাড়ি আয়।  আমিও ওর কান্না শুনে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে পড়লাম।  গেলাম ল্যাব এইড। বিল্লাল এর সাথে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে রাত তখন ১০ টা।  রেনুর বাসা সামনে ই। প্রচুর বৃষ্টি। বাসায় যাবার মত কোন উপায় নেই।  ভাবলাম রেনুকে কল দিই।  কল দিলাম।  কিন্তু রিং হচ্ছে কেউ ধরেনা।  এরপর না পেরেই আরমেনিয়াকে কল দিলাম।  আরমেনিয়া আমার কল ধরে চুপ করে ছিল কতক্ষন। আমি এপাশ থেকে বললাম,হ্যালো, আমি আবির।  তখন আরমেনিয়া বলে উঠল হুম,বল..! আমি বললাম,রেনুকে কল দিচ্ছিলাম ধরছে না।  আমি একটু তোমাদের বাসায় আসতে চাচ্ছিলাম , ড্রেস বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। শুধু চেইঞ্জ করার জন্য।  আরমেনিয়া কিছুক্ষন ভেবে বলল, ওকে। আমি তাড়াহুড়ো করে গেলাম রেনুর বাসায়।  আমার শার্ট, প্যান্ট সব ভেজা।  কলিং বেল এ ক্লিক করতেই আরমেনিয়া হাজির।  খোলা চুল, নীল গেঞ্জি আর নীল কালারের প্লাজো।
খারাপ লাগছিল না প্লাজো তে।  অসথির মানিয়েছিল।  দরজায় দাড়িয়ে বললাম,কি ব্যাপার?  দার করিয়ে রাখবেন নাকি আমাকে?
আরমেনিয়া মুচকি হেসে বলল, না, আসুন ভিতরে।  আমি ভিতরে ঢুকতেই বললাম কি ব্যাপার সবাই কই? রেনু, আন্টি, আংকেল? আরমেনিয়া বলল,সবাই একটু গাজীপুর গিয়েছে। চলে আসবে কাল সকালে। আমি এ কথা শুনে তখন মনে মনে খুশিতে দিশেহারা।  ওয়াশরুম থেকে কাপড় বদলে আমি গেলাম বারান্দায়। আকাশ দেখছি একা।  ঠিক তখনি আরমেনিয়া হাজির।  মিষ্টি গলায় বলে উঠল,আকাশ ভালবাসেন নাকি? আমি বললাম, হুম অনেক। আপনি?
আরমেনিয়া- না, আকাশ ভালবাসি কিন্তু বৃষ্টি বাসি না। বিরক্ত লাগে।
আমি- কি বলেন?  বৃষ্টি আবার কেউ ভাল না বাসে?
আরমেনিয়া – হুম আমি বাসিনা।  আচ্ছা, চা খাবেন?
আমি- হুম কেন নয়। নিয়ে আসলে তো খাওয়ায় যায়।
আরমেনিয়া- ওকে অপেক্ষা করেন।
আমি কিখুক্ষন বৃষ্টিকে অনুভবে ব্যস্ত আর অন্যদিকে ভাবছি আরমেনিয়া কে নিয়ে?  মেয়েটাকে কেন জানি ভাল লাগে, খুব ভাল লাগে। তার সাথে কথা বলতে, সময় কাটাতে, তার আধো আধো কথা খুব ভাল লাগে।  ভালবাসা নিষিদ্ধ  তাকে। এতকিছু ভাবভাবেই আরমেনিয়া হাজির।
আরমেনিয়া- কি হল? ভাবুক মানুষ?  কি ভাবছেন?
আমি মুচকি হেসে বললাম, আপনাকে..  আপনাকে ভালবাসতে চাই। দিবেন?
আরমেনিয়া কথাটা শুনে একটু চমকে গেল।  এরপর বলে বসল,আর মিলি? মিলির কি হবে?
আমি – না ওর কিছুই হবে না। ওর তো আমিই আছি। আর আপনার ও থাকলাম।
কথাটা বলার সাথে সাথে ওই চোখের তার যে জাদুকরী চাহনী ছিল তা বুঝানোর মত না।
ওর প্রতিটি ভাব,কথা, চাহনি আমাকে বলে হুম ভালবাসতে চায় সে আমাকে।  কিন্তু কোথায় একটা কিন্তু…
চায়ের কাপ নিয়ে চলে গেল সে রান্না ঘরে আর জোড়ে বলে উঠল,আমি ঘুমোতে গেলাম। আপনি আংকেলের রুমে ঘুমাবেন। আমি বললাম আচ্ছা।  বারান্দায় আমি একা দাঁড়িয়ে বৃষ্টিকে অনুভব করে যাচ্ছি। সাথে আরমেনিয়া কেও। অনেকক্ষন দারিয়ে  থাকার পর আমি আমাকে আর নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারিনি সেদিন। গেলাম আরমেনিয়ার রুমে।  লাইট অফ।  ছোট বাচ্চার মত ঘুমিয়ে সে।  আমি আস্তে আস্তে ভীরু ভীরু হাত দিয়ে তার এলোমেলো চুল গুলি সরিয়ে দেই।  এরপর কেন জানিনা সে আমাকে এতটা আকৃষ্ট করছিল, আমি তার কপালে চুমু খাই।  কিন্তু সাথে সাথে সে ঘুম থেকে উঠে পড়ে।  ততক্ষনে আমি আমাকে হারিয়ে ফেলেছি।  সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে আর আমি তাকে ভালবাসতে থাকি।  না সেদিন তার কোন বাধা ছিল না।  তার বাধা ছিলনা বলে আমি সেদিন ভেবেছিলাম সে হয়তো নিজ মর্জিতে দিয়েছিল।  তারপর মনের কোথায় যে খারাপ লাগা সৃষ্টি হলো আমি বের হয়ে গেলাম সকাল সকাল বাসা থেকে।  ভেবে নিয়েছিলাম সেদিন আর কখনো  এই মুখ দেখাবোনা তাকে।  এই প্রথম কাউকে ছুয়ে এত অপরাধ প্রবনতা কাজ করছিল আমি আমাকে আয়নায় দেখতে পারছিলাম না?  আমি যে বাজিতে সেদিন জিতে ছিলাম কিন্তু ভালবাসা??  আমি তাকে ভালবাসি তা বুঝতে পেরেছিলাম সেই প্রতিটি দিনরাত যখন তাকে একটা বার সরি বলার জন্য পাগলের মত খুঁজেছি, কল দিয়েছি কিন্তু আর যোগাযোগ করতে পারিনি।  ২ দিন পর পাগলের মত রেনুর বাসায় গিয়েছিলাম। কলিং বেলে চাপ দিতেই রেনু বের হল।  আমি বললাম আরমেনিয়া কোথায় রে?
রেনু – নেই।  ফ্লাইট ছিল আজ। চলে গেছে।
তবে তোর জন্য একটা চিঠি লিখে গিয়েছে, বলছে তুই বাসায় গিয়ে যেন এটা দেখিস।
আমি রেনুর কাছ থেকে চিঠিখানা নিলাম, তারপর এক দৌড়ে রাস্তার ফুটপাতে।  বসলাম।  চোখের প্রতিটি পলকে মনে পড়তে লাগল আরমেনিয়াকে, আমার হিংস্রতাকে, ঘৃনা আমার মাথা থেকে পা অব্দি।  কি করেছি এ আমি? কেন করলাম? কেন..  আমি যে আজ তাকে ভালবাসি একথা বলতে পারিনি আর?  বলতে পারিনি আমাকে আমার বিবেক আজ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।  আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি ।  ওই আকাশের দিকে চিৎকার করে কাদলাম সেদিন আমি। কিন্তু আরমেনিয়া?
আরমেনিয়ার চোখে আমি কেবল ই ঘৃনিত, ভিলেন আজ।
পাগলের মত কাদতে কাদতে কোনমতে বাসায় গিয়ে  তার শেষ চিঠিখানা খুললাম -যেখানে লেখা ছিল-
আবির আমি তোমাকে ভাল বন্ধু হিসেবে চেয়েছিয়াম সবসময়।  তোমার সবার সাথে মিলেমিশে থাকা, দুষ্টুমি আমার খুব ভাল লাগতো।  একটা ভাল বন্ধু হিসেবে ভালবেসেছি হয়তো তোমাকে। তোমার ওই নিষ্পাপ চোখের হিংস্রতা কখনো আমাকে সহ্য করতে হবে জানা ছিলনা।  তোমার ওই ভিলেন রুপী রাতে দেওয়া আচড় গুলি, আমার চিৎকার তোমার কানে পৌছাইনি। আমি কেদেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার চিৎকার শুনোনি।  তোমার হিংস্রতার থাবায় কেন আমাকে পড়তে হল আমার জানা নেই। আমি বহুবার আমাকে ধুয়েছি, কিন্তু তোমার ওই অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ আমাকে আমার প্রতি ঘৃনা সৃষ্টি করছে।  তুমি আমাকে ভালবাসনি,তুমি শুধু আমার শরীর চেয়েছিলে।  আজ তা তুমি পেয়েছ।  তবে ঘৃনা তোমাকে লাগেনা, আমাকে লাগে..! তোমার মত একজন কে বন্ধু ভেবেছিলাম।  তবে মনে রেখো,পৃথিবীর কোথাও একজন তোমাকে সবথেকে বেশি ঘৃনা করে। আর সে এই আরমেনিয়া।
আর সেই চিঠিটা পড়তে পড়তে আমি আজো অপরাধী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।  আর অপরাধবোধ হয়তো পৃথিবীর সবথেকে বড় শাস্তি… যা তুমি দিয়ে গেলে আরমেনিয়া।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here