পল্লী ঋণের প্রধান উৎস এনজিও

0
19

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ব্যাংকগুলো গ্রামের মানুষের কাছাকাছি যেতে পারেনি * এনজিও থেকে ৬৩.২৮ ও ব্যাংক থেকে ২৬.৩ শতাংশ পরিবার ঋণ নিচ্ছে । গ্রামে শাখা থাকলেও ব্যাংকগুলো এখনও মানুষের কাছাকাছি যেতে পারেনি। ফলে পল্লী অঞ্চলের মানুষের ঋণের অন্যতম উৎস হচ্ছে এনজিও।
পল্লী এলাকার ঋণ গ্রহীতা পরিবারের (খানা) মধ্যে ৬৩ দশমিক ২৮ শতাংশ মানুষ এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক থেকে ২৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, মহাজন থেকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, আত্মীয়-স্বজদের থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ পরিবার।
যেসব পরিবার ঋণ নিচ্ছে তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ফসল আবাদ করা। কৃষি ও পল্লী পরিসংখ্যান রিপোর্ট-২০১৮তে এ চিত্র উঠে এসেছে। রোবববার রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কুমার দাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কৃষি উইংয়ের প্রধান জাফর আহম্মদ খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক আক্তার হোসেন খান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পল্লী এলাকার ৬২ দশমিক ১৫ শতাংশ পরিবার ঋণ গ্রহণ করে ফসল আবাদ করার জন্য। এছাড়া পশু পালনের জন্য ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বাড়ি নির্মাণ বা মেরামত করার জন্য ঋণ নেয় ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চিকিৎসার জন্য ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, শিক্ষার জন্য ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, বিবাহের জন্য ৪ দশমিক ১১ শতাংশ এবং অন্যান্য উদ্দেশে ঋণ গ্রহণ করে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরিবার।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষ্ণা গায়েন বলেন, গ্রামে ব্যাংকগুলোর শাখা থাকলেও জনগণের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি। ফলে এখনও এনজিওদের প্রাধান্যই বিদ্যমান। তাছাড়া অধিকাংশ মানুষই ফসল উৎপাদনের জন্য ঋণ নিচ্ছে। এটিও ঋণ গ্রহীতাদের জন্য ঝুঁকি। অধিকাংশ মানুষ সেচ কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করছে, যা আগামীর জন্য ভয়ংকর হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে সরকার প্রয়েজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নীতি প্রণয়ন করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পল্লী এলাকায় বসবাস করে দেশের মোট ১২ কোটি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১২ জন, মহিলা ৫ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার ৮০৩ জন এবং হিজড়া রয়েছে ২২ হাজার ৭২০ জন।
পল্লীর একেকটি পরিবার বার্ষিক আয় করে ২ লাখ ২ হাজার ৭২৪ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আসে ৭৭ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং অকৃষি খাতে আসে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬৭ টাকা। পল্লীর ৭৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ পরিবার শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পায়। এর মধ্যে ছেলে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মেয়ে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
গ্রামের মহিলারা যে উপার্জন করে তার মধ্যে নগদ টাকা পায় ৯৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, দ্রব্য পায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং উভয় পদ্ধতিতে আয় করে ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। যারা আয় করে তাদের মধ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো খরচ করে ৭৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মহিলা। এছাড়া স্বামীর ইচ্ছায় খরচ করে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে খরচ করে ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বাবা-মায়ের ইচ্ছায় খরচ করে ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং শ্বশুর-শাশুড়ির ইচ্ছায় খরচ করে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ নারী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ মহিলা জমির মালিকানা নেই। জমির মালিকানা আছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মালিকানা সম্পর্কে জানেন না ১ দশমিক ৩১ শতাংশ মহিলা।
প্রতিবেদনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পল্লীর ৪ কোটি ৭০ লাখ ১৯ হাজার ৭১ জন জনসংখ্যার মধ্যে কৃষি খাতে কর্মরত আছেন ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৮ জন। এদের মধ্যে পারিবারিক সাহায্যকর্মী হিসেবে কাজ করছে ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০৭ জন, আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত রয়েছেন ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭ জন, কৃষি শ্রমিক হিসেবে ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৮৪০ জন এবং কৃষি খাতের অন্যান্য কাজে যুক্ত রয়েছেন এক লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৪ জন মানুষ। দেখা যায়, গড়ে একজন কৃষি শ্রমিক সপ্তাহে ৫ দশমিক শূন্য ২ দিন এবং দিনে গড়ে ৭ দশমিক ৭৬ ঘণ্টা কাজ করেন। এসব শ্রমিক গড়ে প্রতিদিন ৩৮৬ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, পল্লী এলাকায় খাবার পানির প্রধান উৎসের মধ্যে ৮৫ দশমিক ১১ শতাংশ হচ্ছে টিউবওয়েল। ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ গভীর বা অগভীর নলকূপ থেকে পানি পান করে। কুয়ার পানি পান করে দশমিক ৮৩ শতাংশ। পল্লী এলাকায় পাকা ঘর রয়েছে ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ পরিবারে।
এছাড়া আধাপাকা ঘর ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, কাঁচা ঘর ৬৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ঝুপড়ি ও অন্যান্য ঘর এক দশমিক শূন্য তিন শতাংশ পরিবারের। পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৯১ শতাংশই বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। চার দশমিক ৭৫ শতাংশ পরিবার গ্যাস বা এলপি গ্যাসে রান্না করছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here