ভারী বর্ষণে ৩ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়হীন, পাহাড়ে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা

0
50

নিউজ ডেস্ক: চলমান বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন হাজার চারশ ঘরবাড়ি। এ সময় পৃথক কারণে প্রাণ হারিয়েছে দুই রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সাহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর জানিয়েছে। এ বলা হয়েছে, গত ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির এলাকায় ভূমিধস হয়েছে ৩৯১টি, ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে ৫১ বার। আইওএম’র প্রতিবেদনে আশংকা প্রকাশ করা হয়ছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এতে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইওএম এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলয়েড বলেছেন, বর্ষাকালের মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় আমরা দুই হাজার মানুষকে সহায়তা করেছি। আমাদের সকল সদস্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০১৮ সালের বর্ষাজনিত ক্ষয়ক্ষতির থেকেও বেশি হয়েছে। আইওএম কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসস্থলগুলো মেরামত এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি আশ্রয়স্থলে নিতে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। গত ৩ থেকে ৫ জুলাই, এই তিন দিনে সবচেয়ে বড় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১০ মিলিমিটার। আরেকটি বড় ক্যাম্প ‘ক্যাম্প ১৬’তে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৩০ মিলিমিটার। আইওএম’র হিসাব মতে, গত ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সংগৃহীত প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে, ভূমিধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ১৮৬ টি, পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ২১৬টি, ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ৮৪০টি, অন্যান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৪ জন।
পাহাড়ে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা
ওদিকে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ  আবহাওয়ার কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলায় আটকা পড়েছেন ২৫ জন পর্যটক।
থানচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক মৃদুল জানিয়েছেন,  স¤প্রতি পর্যটকদের তিনটি দলের মোট ২৫ জন পর্যটক উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রি, নাফাখুম হয়ে আরও দুর্গম এলাকায় বেড়াতে যান। টানা তিনদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে আর থানচিতে ফিরতে পারেনি এই পর্যটকরা। পাশাপাশি এই এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। তবে আটকে পড়া পর্যটকরা থানচির জিননা পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা যোগাযোগ করেছে। এদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় থানচি থেকে রেমাক্রি-তিন্দু-বড় মোদক, ছোট মোদকসহ নদীতে সব ধরনের নৌ-চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি থানচি উপজেলার ও এর আশেপাশের পর্যটন স্থান রেমাক্রি, তিন্দু, বড়পাথর, নাফাখুম এবং রুমা উপজেলার তিনাপ সাইতার ঝরনা, বগালেক, কেওক্রাডংসহ অন্যান্য দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here