ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ১২স্থানে ভাঙ্গন, ১৭ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

0
20

মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ী উজানের ঢলে ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে  ১২ টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১৭টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছেন এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। গত বুধবার ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা কবলিত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বাড়ি-ঘর, বীজতলা, শব্জী ক্ষেত, মাছের ঘের, পুকুরের মাছ বন্যার  পানিতে ভেসে গেছে। বশত ঘর, রানাঘরে পানি ওঠার কারণে মানুষজনকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম আসলে বাঁধের কাজ হয়,  আবার পরের বছর ভেঙ্গে যায়। টেকসই  বাঁধ না বাঁধার কারনেই প্রতি বছর তাদের ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে। বন্যায় কবলিত স্থানীয় জনগণ ত্রান নয়, বাঁধের স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী।
চিথলিয়া ইউনিয়নের রামপুর এলাকার বাসিন্দা নিলু মিয়া জানান, গেল মৌসুমে গ্রামের এক পাশের বাঁধ ভেঙ্গেছিলো। এবার ভেঙ্গেছে অন্যপাশে। এভাবে প্রতিবছরই তাদের পোহাতে হয় অবর্ণণীয় দ‚র্ভোগ।
পরশুরাম উপজেলা : মুহুরী নদীর পরশুরামের অংশে মঙ্গলবার রাতে ৫টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন স্থান গুলো হচ্ছে: চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শালধর গ্রামের মহসিন মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন , দ‚র্গাপুর গ্রামের কালাম মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন স্থান, পৌর এলাকার বেড়া বাড়ীয়া শাহপাড়া গ্রামে সংলগ্ন স্থান, উত্তর ধনিকুন্ডা বদু মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন, নোয়াপুর আলত মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে।
বেড়িবাঁধের ভাংঙ্গনের কারণে উত্তর ধনিকুন্ডা, চিথলিয়া, শালধর, রাজষপুর, দুর্গাপুর, নোয়াপুর, রামপুর, বেড়াবাড়ীয়া,অলকাসহ ৯টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেলুল কাদের জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য উপজেলা প্র্রশাসন কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো সাইফুল ইসলাম জানান,মঙ্গলবার (৯জুলাই) রাত ৮টা থেকে ৯টা দিকে ফুলগাজি উপজেলার মুহুরী নদীর বিভিন্ন স্থানে ৭টি ভাঙ্গনে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জয়পুরের ঘনিয়া মোড়ায় তিনটি স্থানে, উত্তর শ্রীপুর গ্রামের পুর্ব পাড়া, সাহাপাড়া দুটি স্থানে, বক্সমাহমুদ কাপ্তান বাজার এলাকায় ২টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়।
এতে উপজেলার অন্তত ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রাম গুলি হচ্ছে উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, নীলক্ষি, কিসমত ঘনিয়া মোড়া,পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া, জয়পুর, শাহাপাড়া, বৈরাগপুর গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী থেকে পরশুরাম পর্যন্ত হাটু পরিমাণে পানি থাকায় সরধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সকালের দিকে পানি কমতে থাকে। পানি উন্নয়ন বোড সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার রাত থেকে মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার ১.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। আজ বুধবার তা কমে গিয়েছেএবং পানির প্রবাহ লেভেলে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহির উদ্দিন জানান, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বাঁধের ১২টি স্থানে ভেঙ্গে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামতের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানিয়েছি। এটার জন্য যে প্রক্রিয়া প্রয়োজন, আমরা তা করে যাচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুহুরী নদীতে যেভাবে হঠাৎ করে পানি আসে, এই পানি রোধ করার জন্য শক্তিশালী অবস্থায় বাঁধগুলো নেই। স্থানীয় লোকদের বাঁধার মুখে নদী থেকে যতদূরে বাঁধ দেওয়ার কথা তা আমরা করতে পারিনি। ফলে পানি প্রবাহিত হওয়ার জন্য পর্যপ্ত যে জায়গা দরকার তা পাওয়া যায়নি।এই জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে বাঁধের দূর্বল জায়গা ভেঙ্গে যাচ্ছে। বন্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে সরকার সজাগ আছে। এখানকার বন্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here