১১ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি কক্সবাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে: প্রধানমন্ত্রী

0
56

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই তারা যত দ্রæত সম্ভব নিজ দেশে ফিরে যাক। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মার্শাল আইল্যান্ডসের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন, গেøাবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলে অবগত আছেন, আমরা কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। কক্সবাজারের যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে সেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের উপস্থিতি এসব এলাকাকে আরও অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এসব বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার পাশাপাশি অতি দ্রæততার সঙ্গে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আমি বিশ্ব স¤প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। উপক‚লীয় এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। এরইমধ্যে সরকার তিন হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করেছে। আরও ১ হাজার ৩৫০টি করা হবে। এগুলো সাধারণত স্কুল বা অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে সাইক্লোন বা জলোচ্ছ¡াসের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া দুর্যোগে যেন সুপেয় পানির অভাব না হয় সেজন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এভাবে সরকার বিভিন্ন সময় উপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমে এসেছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, গেøাবাল কমিশন অব অ্যাডাপটেশনের সহযোগিতায় আমরা চাচ্ছি, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সঠিক অভিযোজনের কৌশল শিখতে। যে সুপারিশগুলো আসবে সেগুলো যেন স্মল আইল্যান্ড কান্ট্রিগুলো (ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশ) গ্রহণ করতে পারে। আমি শুধু আমার নিজের দেশের কথাই ভাবি না। গেøাবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনেক দেশ হারিয়ে যাবে। সেখানকার মানুষগুলো কোথায় যাবে? তাদের কথাও ভাবি। সে কারণে আমি বাংলাদেশে রিজিওনাল অ্যাডাপটেশন সেন্টার গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও গেøাবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সভাপতি বান কি মুন। তাকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক : বান কি মুন
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেন, গেøাবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন কেন আজ ঢাকায় এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে, এটা আমাদের সবার মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আমি বলবো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। সে কারণেই আমরা আজ এখানে।
বান কি মুন বলেন, আইপিসিসির রিপোর্ট অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার ফলে সমুদ্র লেভেলের পানির উচ্চতা থেকে এক মিটার বাড়ার ফলে বিশ্বের ১৭ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে। সে কারণেই অভিযোজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় অ্যাডাপটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা বলেছেন। আমরা তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিযোজনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন বান কি মুন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here