পিরোজপুরে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা লক্ষাধিক টন

0
12

গৌতম চৌধুরী পিরোজপুর : পিরোজপুরে চলতি আমন চাষ মৌসুমে ৫৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে একই সাথে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭২২ মে:টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ৭ উপজেলার প্রতিটির আমন চাষের ও আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমনের মধ্যে উফশী, হাইব্রীড ও স্থানীয় জাত রয়েছে এবং এ জেলার ৫২টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় একযোগে বীজতলা তৈরির কাজ চাষীরা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সবকিছুই চাষীদের অনুকুলে রয়েছে বলে পিরোজপুর পৌর এলাকার আমন ধান চাষী রতন ঢালী জানান। পিরোজপুর সদর উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৬৪০ হেক্টরে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৮৩৮ মে:টন:। অনুরূপভাবে ইন্দুরকানীতে ৫ হাজার ১৭০ হেক্টরে ৯ হাজার ৮২০ মে:টন, কাউখালীতে ৪ হাজার ৪১০ হেক্টরে- ৮ হাজার ২৫ মে: টন, নেছারাবাদে ৬ হাজার ২৯৯ হেক্টরে- ১১ হাজার ৩৭৫ মে:টন:, নাজিরপুরে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টরে- ১৪ হাজার ৮ মে:টন, ভান্ডারিয়ায় ৭ হাজার ৮৩৫ হেক্টরে ১৪ হাজার ১৫২ মে:টন এবং মঠবাড়িয়ায় ১৯ হাজার ৬৭০ হেক্টরে ৪১ হাজার ৫০৪ মে:টন চাষের ও চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো: জাফর জানান, উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ১শত ৮০টি এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য সহায়ক প্রকল্প এর আওতায় ৩২টি প্রদশর্নী প্লট তৈরি করা হয়েছে। এসব প্লটের মধ্যে ১ একরের ১শত ৮০টি এবং ৫০ শতাংশের ৩২টি প্লট রয়েছে। সরকার এসব প্রদশর্নী প্লটের জন্য বীজ, সার, ঔষধ বিনামূল্যে চাষীদের সহায়তা করছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৭টি কৃষক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আমনের বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত এসব স্কুলের প্রত্যেকটিতে ৫০জন কৃষান কৃষানী হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার ট্রেনি এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কৃষাণ কৃষানীদের সুবিধামত সময় এসমস্ত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে এবং এদের প্রতিদিন ৭০ টাকা প্রশিক্ষণ গ্রহণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারনের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান এ জেলায় ইতিমধ্যেই চাষে ৯০ ভাগ এবং ধান মাড়াইতে ৯৫ভাগ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। খুব দ্রæতই শতভাগ কৃষক এসব পদ্ধতি ব্যবহার করবে। জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক আমন চাষীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার বীজ সহজলভ্য হওয়ায় এবং এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষাবাদের এবং চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here