ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে ভাঙ্গন, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

0
226

মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ী উজানের ঢলে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়েছেন এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। গত দুইদিন বৃষ্টি কম হওয়ায় এখানে পানি বাড়েনি, তবে এখনও প্লাবিত রয়েছে গ্রামগুলো। ফলে পানি না কমায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা কবলিত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বাড়ি-ঘর, বীজতলা, শব্জী ক্ষেত, মাছের ঘের, পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে আছে। এলাকায় অনেক রাস্তা এখনও পানির নীচে। এতে স্বভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেনা। পানি না কমায় এবং মানুষজনের বশত ঘর, রানাঘরে বন্যার পানিতে সয়লাব থাকায় তাদের বসবাস ও রান্না-বান্নায় সীমাহীন ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে। বিশৈষ করে গৃহপালিত পশু নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ী উজানের ঢলে গত মঙ্গলবার রাতে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে ১২টি স্থানে ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকে ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে এখানকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম আসলে বাঁধের কাজ হয়, আবার পরের বছর ভেঙ্গে যায়। টেকসই বাঁধ না বাঁধার কারণেই প্রতি বছর তাদের ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে। বন্যায় কবলিত স্থানীয় জনগণ ত্রান নয়, বাঁধের স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী। পরশুরাম উপজেলা : ভারী বর্ষণে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের পরশুরাম উপজেলায় চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শালধর গ্রামের মহসিন মেম্বার বাড়ি, দ‚র্গাপুর গ্রামের কালাম মেম্বারের বাড়ি, পৌর এলাকার বেড়া বাড়ীয়া শাহপাড়া গ্রামে, উত্তর ধনিকুন্ডা বদু মিয়ার বাড়ি, নোয়াপুর আলতু মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ৫টি স্থানে ভেঙ্গে যায়।  এতে উত্তর ধনিকুন্ডা, চিথলিয়া, শালধর, রাজষপুর, দুর্গাপুর, নোয়াপুর, রামপুর, বেড়াবাড়ীয়া, অলকাসহ ৯টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা: ফুলগাজী উপজেলায় জয়পুরের ঘনিয়া মোড়ায় তিনটি স্থানে, উত্তর শ্রীপুর গ্রামের পুর্ব পাড়া, সাহাপাড়া দুটি স্থানে, বক্সমাহমুদ কাপ্তান বাজার এলাকায় ২টিসহ ৭টি স্থানে ভেঙ্গে যায়।এতে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, নীলক্ষি, কিসমত ঘনিয়া মোড়া,পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া, জয়পুর, শাহাপাড়া, বৈরাগপুর গ্রাম ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী থেকে পরশুরাম পর্যন্ত হাটু পরিমাণে পানি থাকায় সরধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পানি কমায় বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। অপরদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার ১.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পরে তা কমে গিয়েছে এবং বর্তমানে পানির প্রবাহ লেভেলে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুহুরী নদীতে যেভাবে হঠাৎ করে পানি আসে, এই পানি রোধ করার জন্য শক্তিশালী অবস্থায় বাঁধগুলো নেই। স্থানীয় লোকদের বাঁধার মুখে নদী থেকে যতদূরে বাঁধ দেওয়ার কথা তা আমরা করতে পারিনি। ফলে পানি প্রবাহিত হওয়ার জন্য পর্যপ্ত যে জায়গা দরকার তা পাওয়া যায়নি। জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে বাঁধের দূর্বল জায়গা ভেঙ্গে যাচ্ছে। বন্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার সজাগ আছে। এখানকার বন্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here