কুড়িগ্রামে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ২ লাখ

0
27

সাইফুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট। চারদিকে পানি আর পানি নেই চারণ ভুমি। কিংবা গবাদিপশু রাখবার মত উচু স্থান। গাদাগাদি করে ঘরেই মধ্যে কিংবা উচু স্থানে রাখতে হচ্ছে। ফলে কৃষকরা তাদের এই শেষ সম্বল গবাদিপশু রেখে নিরাপদ আশ্রয়েও আসতে পারছেনা। রোববার শেষ বিকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার কুড়িগ্রাম বন্যাদুগর্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় সার্কিট হাউসে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান। সচিব বন্যা মোকাবেলায় সকল বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে জনগনের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।
প্লাবিত তিনশ গ্রাম : জেলার ৯টি উপজেলার চরাঞ্চলের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫২টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ। রোববার বিকাল ৩টায় চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৭৬  সে.মি., নুনখাওয়ায় ৪০ সে.মিটার, সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৮১ সে. মিটার। তবে কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২ সে. মিটার কমে বিপদসীমার ২০ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। চর, দ্বীপচর, নদী সংলগ্ন গ্রামের সবগুলোই এখন পানিতে ভাসছে। কোন কোন এলাকায় দু’একটি উচুঁ ভিটা ছাড়া শুকনো জায়গা খুঁজে পাওয়া ভার। ৭৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮০০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
নদী ভাঙন : বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙনে এ পর্যন্ত গৃহহীন হয়েছে এক হাজার ৩১টি পরিবার। ভেঙে গেছে দুটি স্কুল। স্কুল দ’ুটি হলো, নাগেশ^রী উপজেলার শংকর মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাগেশ^রীর এলাহীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এদিকে সদরের হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব, বাংটুর ঘাট, উলিপুরের চর বজরা ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুরহেলান গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। এই এলাকাগুলোতে বাঁধ মেরামতেবালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ২৪ ঘন্টা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
ডুবে গেছে রাস্তাঘাট : চরাঞ্চলের সকল কাঁচা রাস্তা ডুবে যাওয়ার পর কলা গাছের ভেলা ও নৌকা নির্ভর হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক নিমজ্জিত হওয়ায় এসব সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে ঘোগাদহ-যাত্রাপুর সড়ক, ভিতরবন্দ-নুনখাওয়া সড়ক রয়েছে। সড়ক বিভাগের আওতাধীন উলিপুর-বজরা সড়ক ও ভিতরবন্দ-কালিগঞ্জ সড়কের দ’ুটি স্থানে ১৩০ মিটার এলাকা নিমজ্জিত হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো; আমির হোসেন জানান, কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থলবন্দর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে পানি রাস্তা উঠে যাতে যানচলাচল বন্ধ হতে না পারে সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে।
কৃষি ক্ষতি বাড়ছে :পানি বাড়ছে, বাড়ছে কৃষি ক্ষতিও। কুড়িগ্রামে বন্যায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে আমনের বীজতলা, আউস, সবজি, কলা ভুট্রা ও পাট। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন ও কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পাঠদান বন্ধ রয়েছে ২৮৫ স্কুলে : স্কুলগৃহে, মাঠে ও চলাচলের রাস্তায় পানি ওঠায় কুড়িগ্রামে ২৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এসব স্কুলের অনেকগুলোর মাঠ চার-পাঁচ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: শহিদুল ইসলাম জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণকে বন্যা মোকাবেলায় সহায়তার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here