কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা বাণিজ্য

0
34

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা নিয়ে এবার কোন সংঘাত-সংঘর্ষের খবর নেই। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য মহানগরসহ জেলা শহরগুলোতেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কারণ কোন সিন্ডিকেট নেই এবার। সংসদ  সদস্য এবং সরকার দলীয় নেতারা এ ব্যাপারে সতর্ক থেকে ভাগ  বাটোয়ারায় হাট ইজারার ব্যবস্থা করছেন। ঢাকা মহনাগরে এরিমধ্যে সকল হাট পারস্পরিক সমঝোতায় ইজারা প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এতে সিটি কর্পোরেশন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সরকার দলীয় নেতা-কর্মী কাউন্সিলর, অনেক এমপি লাভবান হয়েছেন।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, এবারে বরাবরের মতো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলেও সবই হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে। ঢাকা উত্তরে এগারটি ও ঢাকা দক্ষিণে চৌদ্দটি কোরবানীর পশুরহাট বসছে। এবার পাঁচটি পশুর হাট বাড়ানো হয়েছে। কার্যত্ব প্রতিযোগিতা ছিলনা, ইজারা নিতে আগ্রহীরা নিজেরা গোপন সমঝোতায় এসে রেট দিয়েছেন। স্থানীয় এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে ও তাদের নির্দেশনায় ইজারা প্রদানকারিরা রেট নির্ধারন করে দরপত্র ফেলেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই ইজারা পেয়েছেন। নামেমাত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়ম মাফিক সর্বোচ্চ দরদাতাই ইজারা পেয়েছেন। এতে করে কারো প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। ঢাকা দক্ষিনের হাটগুলো ইজারা হয়েছে ১০কোটি ৪০ লাখ টাকায়। ঢাকা উত্তরে এগারটিতে এসেছে নয় কোটি টাকা। এই ইজারা মূল্য কর্পোরেশন নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা কম নয়। অর্থাৎ দৃশ্যমানভাবে কর্পোরেশন ক্ষতিগ্রস্থ নয়। কিন্তু নিয়মরক্ষার টেন্ডারের স্থলে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র পড়লে রেট আসত অনেক বেশি। কর্পোরেশন কর্তৃক ধার্যকৃত ইজারামূল্য অপেক্ষা পঞ্চাশ থেকে শতভাগ বেশি ইজারামূল্য পাওয়া যেতে। কিন্তু এবার বাইরের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় আসতে পারেননি।
কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিযোগিতামূলক রেট পড়লে কর্পোরেশনের দ্বিগুন পরিমান রাজস্ব আসত। অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গোপন মধ্যস্থতায় পারস্পরিক সমঝোতায় গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তাদের করার কিছু ছিলনা। অন্যান্য মহানগর, জেলা, উপজেলায় একই প্রক্রিয়ায় কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয়রাই লাভবান হচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসমূহে সরকার দলীয়রা ক্ষমতায় থাকায় সবকিছু সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পাদনে সমস্যা হচ্ছেনা।
ইজারাবাবদ যে অর্থ আদায় হয় কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো কোন সময়ই সে অর্থ পুরোপুরি পায়না। ইজারাদারের লোকজন তার উল্লেখযোগ্য অংশ ভাট বাটোয়ারা করে নেন। এবারও এর ব্যতিক্রয় হবেনা বলে কর্পোরেশনের কর্মীদের আশঙ্কা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here