ভারসাম্য রক্ষার কঠিন কাজটি করছেন শেখ হাসিনা

0
31

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারসাম্যপূর্ণ ক‚টনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ভারত ও চীন বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। উভয়ের সাথে একই সাথে উঞ্চ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার কঠিন কাজটি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা চীন ও ভারত উভয়ের কাছেই শেখ হাসিনার উচ্চমাত্রার গ্রহণযোগ্যতা।
ক‚টনৈতিক মহল আরো মনে করেন বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিবেশি দুই দেশেরই সুদূর প্রসারি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামরিক, ভ‚-রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারনেই বাংলাদেশের গুরুত্ব। ক‚টনৈতিক দক্ষতা, দূরদর্শিতার মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আসছে। তার প্রমান পাওয়া যায় ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে মেনে নিয়ে দুই দেশেরই নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের প্রতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর পরই নিরুঙ্কুশ সমর্থন ঘোষনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের এক অঞ্চল এক সড়ক নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পারস্পরিক স্বার্থেই কানেকটিভিটি গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারত চীনের এই নীতির পক্ষে নয়। আগামী এক শতাব্দীর আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চীন অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ -মায়ানমার-ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্থান-ইরান হয়ে ইউরোপ-আমেরিকাসহ গোটা বিশ্বে চীন তার অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তৃত করার সুযোগ পাবে। এই মহাপরিকল্পনায় সবদিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে পাকিস্তান। চীনের এই পরিকল্পনা নিয়ে ভারত চিন্তিত হলেও ক‚টনৈতিক মহল মনে করেন তার কোন সঙ্গত কারন নেই। কারন চীন-মায়ানমার-ভারত-পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে কানেকটিভিটি গড়ে তোলার ব্যাপারে কয়েক বছর আগেই চুক্তিবদ্ধ। যদিও এই চুক্তি বাস্তবায়নে কোন পক্ষই উদ্যোগী ভ‚মিকা এখন পর্যন্ত নেয়নি। ভারত দ্র‍ুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা চীনের চেয়ে পিছিয়ে।
বাংলাদেশ ভারত ও চীনের কাছে থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাচ্ছে। তবে চীনের আর্থিক, কারিগরি, সহযোগিতা, বিনিয়োগের পরিমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-সকলের সহযোগিতা জরুরি বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও উপলব্ধি করছে। দেশের উন্নয়ন ও জনগনের জীবনমান উন্নত করাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র উদ্দেশ-চীন ও ভারত উভয়েই তা বিবেচনায় নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
পদ্মা ব্রিজ, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল সংযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, সেতু, টানেল নির্মাণ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে চীন দুই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন, চট্টগ্রাম শহরে মেট্রোরেল, বিদ্যুত, গঙ্গা ব্যারেজসহ আরো বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে চীন আগামী কয়েক বছরে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে। মানিকগঞ্জে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তারা এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। অপরদিকে ভারতও বাংলাদেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ করছে। তবে চীনের তুলনায় তা অনেক কম। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য। চীন ও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগি হলেও বিস্ময়করভাবে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করেই চলছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here