ভয়াবহ রূপে ডেঙ্গু : ৭ হাজারের অধিক আক্রান্ত ছয় মাসে

0
81

নিউজ ডেস্ক : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে সাত হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি। এদিকে, হবিগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. শাহাদত হোসেন (৫৩) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার রাত ১২টায় মারা যান। তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই তোলপাড় শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবমতে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়াল। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৪০৩ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খোদ ঢাকাতেই ৩৯৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনায় দুজন ভর্তি হয়েছে। আর ঢাকায় হেমোরজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন দুজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৩, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪৫, বারডেম হাসপাতালে ৮, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৫, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮, পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে পাঁচ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯ এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ১২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সাত হাজার ৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগে এ সংখ্যা ২৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগী চট্টগ্রামে আটজন ও খুলনায় ৩৭ জন। তবে আশার কথা হলো, এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫০৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সরকারি হিসাবমতে এখনো এক হাজার ৬৬৫ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরো বেশি দাবি করা হচ্ছে মর্মে প্রশ্ন করা হলে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক বলেন, সরকারি হাসপাতালের তথ্য ঠিক থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলো অনেক সময় তথ্য সরবরাহ করতে চায় না। তাই হিসাবে কিছুটা গরমিল থাকতে পারে। এ ব্যাপারে মহাখালী রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের সময় কোনো ডেঙ্গু রোগী পেলে রক্ত সংগ্রহ করে তাঁদের কাছে নমুনা ও রোগী-সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে বলা হলেও তাঁরা পাঠাচ্ছেন না। এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলেন, এ সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক  বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচার মূল উপায় হলো সচেতনতা। বাসার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, সময়মতো ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডেঙ্গু নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।  ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায় প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ডেঙ্গু এডিস মশার কারণে হয়। ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে। ডেঙ্গু কীভাবে চিনব এ প্রশ্নে ডা. মাহমুদুন্নবী মাসুম বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেইসঙ্গে শরীরে প্রচÐ ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। গায়ে রেশ হতে পারে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব হতে পারে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here