আগামী বছর থেকে সকল হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই হবে

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী হজ মওসুমে বাংলাদেশের সকল হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই হবে। হজযাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যাত্রীর আবাসস্থলে পৌছে দেয়া হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে চলছে। মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি এখানে ইমিগ্রেশন সেরে সৌদি আরব যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। আরো প্রায় ২৭ হাজারের ইমিগ্রেশন ঢাকায় হবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের হজযাত্রীদের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধ ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর তৎপরতায় এবারই ঢাকায় ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়। তবে সময় স্বল্পতায় শতভাগ হজযাত্রীর জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শেখ আবদুল্লাহ এ প্রতিনিধিকে বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের সমস্ত হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই সম্পন্ন করা হবে। এ বছর সীমিতভাবে হলেও এ ব্যবস্থা চালু করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে সম্মত হবেন তা আমরাও ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌদি বাদশাহর ব্যক্তিগত গভীর আন্তরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের প্রতি মমত্ববোধ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ চলতি হজ মওসুমে থেকেই ইমিগ্রেশন চালু করতে আগ্রহী হয়। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইমিগ্রেশনের পাশাপাশি বিমান বন্দর থেকে লাগেজ হজযাত্রীদের আবাস স্থল-হোটেল, বাড়িতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। এমনও দেখা গেছে যে, হজযাত্রী বাড়িতে ওঠার আগেই লাগেজ পৌছে গেছে। এতে হজযাত্রীদের বিড়ম্বনা, কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছেনা। তারা স্বস্তি পাচ্ছেন। গত হজেও জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশনের জন্য হজযাত্রীদের সাত-আটঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিদারুন কষ্ট, দুর্ভোগের শিকার হতে হবো হজযাত্রীদের। মন্ত্রী বলেন, আগামীতে ইমিগ্রেশন লাগেজ পৌছানোসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা যাতে আরো সুষ্ঠু, সুন্দর নিখুঁতভাবে সম্পাদন করতে পারি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জানা যায়, এ বছর সর্বশেষ ৮১ হাজার ১১৫ জন হজযাত্রী জেদ্দায় পৌঁছেছে। এদের মধ্যে বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সেরে সরাসরি গেছেন প্রায় ৩৯ হাজার জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছে ৪২ হাজার জন , বাকীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায়। বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়া হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ৩৭৩ টি শ্লট পেয়েছে। এ পর্যন্ত বিমানের ১২০টি ও সৌদিয়ার ১০৪টি ফ্লাইট গেছে। এবারে মোট ৫৯৮টি বেসরকারি হজ এজেন্সি কাজ করছে। বড় ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি কারো বিরুদ্ধে। ধর্মমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বলেন, আমরা সতর্ক রয়েছি। ছোট খাটো সমস্যা হলে বা উদ্ভবের সম্ভাবনা থাকলে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে সমাধান দেয়া হচ্ছে। তারপরও কোন হজযাত্রী প্রতারনা অবাঞ্চিত হয়রানীর শিকার হলে আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর জেদ্দাগমন নিশ্চিত করব।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here