কোরবানীর পশুর দাম এবার চড়া হতে পারে

0
27

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের কোরবানীর ঈদে চাষী পর্যায়ে গবাদি পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও খামারিরা লাভবানই হবেন। ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে কোরবানীদাতাদের চড়া দামেই গবাদিপশু কিনতে হতে পারে। চলমান বন্যাই এর কারণ।
বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক বিস্তৃতি কৃষক, গ্রামের মানুষদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। ঢাকাসহ মহানগরগুলোতে শাক-সবজিসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। কৃষকদের পক্ষে গবাদিপশু পালন সম্ভব হচ্ছে না। ঘরবাড়ি, ফসল, ঘাস পানিতে ডুবে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ খাবারের সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে গরু-ছাগল বিক্রিও করতে পারছে না ক্রেতার অভাবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গবাদিপশু পালন অধিকতর কষ্টসাধ্য হচ্ছে। নিরুপায় হয়েই কৃষককে কম দামে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। সংঘবদ্ধ চক্র চাষীদের দুর্বলতার সুযোগে তাদের কাছ থেকে কম দামে গবাদিপশু কিনছে। অপরদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চোরাইপথে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু আনা হচ্ছে গত এক মাস ধরে। কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে আগেভাগেই পরিকল্পিতভাবে গরু পাচার করা হচ্ছে। বন্যার মধ্যেও এই অবৈধ প্রক্রিয়াও থেমে নেই। দেশে প্রয়োজনীয় যোগান থাকলেও যোগাযোগ অবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
জানা যায়, দেশে ১ কোটি ১১ লাখ গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী দেশেই ১ কোটি ১৮ লাখ গবাদি পশু রয়েছে। ৭ লাখ গবাদি পশু বাড়তি থাকবে বলে সমস্যা  হবে না। গত কোরবানীর ঈদে দেশে চাহিদা ছিল ১ কোটি ৫ লাখ গবাদি পশুর। স্থানীয়ভাবে যোগদান ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ। অতিরিক্ত ছিল ১১ লাখ। কিন্তু তারপরও শেষ পর্যায়ে বাজারে গরু পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন দেশের খামারিরা যাতে কোরবানীর হাটে পশুর দাম একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন সে জন্য আগে থেকেই নানা কারসাজি করছেন। বন্যা তাদেরকে বাড়তি ফায়দা নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। দেশে ছোট-বড় প্রায় ৬ লাখ খামারি রয়েছেন। তাদের কাছে গবাদি পশু আছে প্রায় ২৮ লাখ। অপ্রতিষ্ঠানিক খামার, কৃষকের গৃহপালিত পশু ও চর, উপক‚লীয় এলাকার গবাদি পশু দিয়ে কোরবাণীর পশুর চাহিদা মিটানো হয়।
এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খামারিদের কাছেই ৩০ থেকে ৩৫ লাখ গবাদি পশু রয়েছে। সেখানে কৃষকের ঘরে রয়েছে প্রায় ৭০-৭৫ লাখ গরু। এইসব গরুর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বৈধ ও চোরাইপথে বাংলাদেশে আসে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে তা বড় রকমের অবদান রেখে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ থেকেও বাংলাদেশে গরু আসে। বৈধ পথেই ভারত থেকে বছরে ৮ লাখের বেশি গরু আসে। ঈদের সময় তা দুই তিন গুণ বেড়ে যায়। অবৈধভাবে আসে কমপক্ষে পনের লাখ। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গরু জবাইয়ের বিপক্ষে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থাটা একটু ভিন্নতর। এখানকার বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে বিপক্ষে হলেও কৃষক ও খামারিদরে স্বার্থে তারা গরু বৈধ ও অবৈধপথে বাংলাদেশে গবাদিপশু পাঠানোর বিরোধিতাও করছেন না।
রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় দেড় মাস আগেই চোরাই পথে গরু আসা শুরু হয়েছে। নদীপথে নৌকার পিছনে বাঁশের মাচা ও কলা গাছ ভাসিয়ে তার সাথে গরু বেঁধে সাঁতরে এপাড়ে আনা হয়। সীমান্তের দুই পাড়ের গ্রামের লোকজন পারস্পরিক যোগাযোগ করেই এ অবস্থায় গরু আনছেন। রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ভারতীয় গরুতে ছেয়ে আছে। দু’দেশেরই সীমান্ত রক্ষীদের অবগতিতে থাকলেও তারা ব্যবস্থা নেন কদাচিৎ। বাংলাদেশের বড় খামারিরা ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করার পক্ষে। একচেটিয়া ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই তাদের আপত্তি। আবার ভারতীয় গরু আনার পিছনে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায়  সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করতে পারছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here