প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাচ্ছেন

0
33

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রিয়া সাহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন। সঙ্গে দুই কন্যা সন্তানের সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য গ্রীন কার্ড পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের মানুষ ও দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরও সরকার এখন পর্যন্ত প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রিয়া সাহার দেশে ফিরে আসা ও নিরাপদে অবস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতও এ ব্যাপারে নমনীয়তা দেখাচ্ছেন।
হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন প্রিয়া। সর্বসম্মতভাবে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে তিন কোটিরও বেশি হিন্দু ‘হারিয়ে গেছেন’ বলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ করেছেন। প্রিয়া সাহা কিভাবে, কাদের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র গেলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ লাভ ও অভিযোগ করার সুযোগ পেলেন তাও রহস্যাবৃত। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় অবশ্য ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের দিকে অভিযোগের তীর তুলেছেন। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। প্রিয়া সাহা এ ধরনের বক্তব্য রাখতে পারেন তা তাদেরও ধারণায় ছিল না বলে জানান। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দলসমূহসহ সারাদেশে সর্বপর্যায়ে যে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে তাতে বিদেশীরাও বিব্রত, চিন্তিত।
ক‚টনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রিয়া সাহা তার দুই কন্যাসন্তানকে ছয় মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান। সেখানে হিন্দু ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে প্রিয়ার যোগাযোগ রয়েছে। তার সন্তানদের সেখানে পাঠানো, আবাসন ব্যবস্থাসহ বিভিন্নভাবে তারা সহায়তা করছেন। গ্রীন কার্ড পাওয়ার ব্যাপারেও তারা চেষ্টা করছেন। প্রিয়া সাহার বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন প্রিয়া সাহা ও তার স্বামী। দেশে ফিরলে তাকে জনতার রোষানলে পড়তে হতে পারে, এমনি আশঙ্কা করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত প্রিয়ার স্বামী মলয় সাহা। সহকর্মীদের সাথে আলোচনায় তিনি নিজেও শঙ্কাবোধ করার কথা জানান। মলয় সাহাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চাচ্ছেন প্রিয়া। সন্তানদের গ্রীন কার্ড এবং নিজের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য প্রিয়া এ কাজ করেছেন বলে ক‚টনৈতিক মহল মনে করেন। এর পিছনে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাও থাকতে পারে, যার সাথে বিদেশী মহল বিশেষের সম্পর্ক রয়েছে। প্রিয়া সাহাকে তারা ব্যবহার করেছেন মাত্র। প্রিয়া ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা বিধানকেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সরকার তাদের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেও হিন্দুধর্মাবলম্বীসহ সর্বমহলে যে ঘৃণা ও ক্ষোভের সৃষ্টির হয়েছে তা থেকে প্রিয়া পরিত্রাণ পাবেন কিভাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here