৬৪ জেলাতে ডেঙ্গু, ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭১ জন ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে

0
38

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বশেষ নেত্রকোণায় আট জনের শরীরে ডেঙ্গুর ভাইরাস শনাক্তের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাইরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসের (ডিজিএইচএস) পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে বলেছিলেন, নেত্রকোণা বাদে সারাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। কিন্তু সন্ধ্যায় ডিজিএইচএস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ঘণ্টায় ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২১ জুন এক দিনে ৬৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ৪১ দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার বেড়েছে প্রায় ২৬ গুণ। এদিকে, ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এক দিনের হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪৬৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১৯ হাজার ৫১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিজিএইচএস। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮৩৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডিজিএইচএস’এর হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪ জন মারা গেছেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০-এর বেশি বলে জানা গেছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত ঢাকায় হলেও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন গড়পড়তা পাঁচশো জন এই মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ওদিকে, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেলে এই ভাইরাস সারা দেশে ব্যপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঢাকা থেকে যারা যাবেন তাদের মধ্যে একটা অংশ কোনো না কোনো ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এদের মধ্যে কারও হয়তো জ্বর থাকবে, আবার কারও হয়তো তখনো জ্বর নেই কিন্তু পরে জ্বর হতে পারে। তাই এটা প্রতিরোধে, কারও যদি জ্বর থাকে তাহলে তিনি যেন ভ্রমণ না করেন এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জ্বর থাকলে যেন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে এটা ডেঙ্গু কি-না। আবার কারও কারও হয়তো জ্বর তখন হয়নি কিন্তু তার মধ্যে ইনফেকশন ঢুকে আছে। কিন্তু জ্বর না হওয়ায় তিনি টের পাননি। তিনি হয়তো চলে যাবেন। এভাবে ভাইরাস দেশের অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিদিনই ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বলা হচ্ছে, ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরাই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। তবে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এডিস মশা এখনো শহরকেন্দ্রীক। সাধারণত এ মশা একশো থেকে চারশো মিটারের বেশি উড়তে পারে না। কিন্তু পরিবহনের মাধ্যমে এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here