খালেদা জিয়া-তারেক রহমান নেতৃত্বে থাকতে পারছেন না

0
34

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে আগামীতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। কাউন্সিল তাদেরকে পুননির্বাচিত করলেও তারা আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হবেন। যা তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে।
আগামী ডিসেম্বরে বিএনপির কাউন্সিল করার কথা রয়েছে। অপরাপর জেলা, মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল, জেলা ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরে নেতৃত্বের দ্ব›দ্ব অমীমাংসিত রয়েছে। সকল সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সকল জেলা, মহানগর পর্যায়ে ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন যদি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হয় কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান ব্যহত হবে না। কাউন্সিল যাতে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত না হতে পারে সে লক্ষে ভিতরের ও বাইরের শক্তি ক্রিয়াশীল রয়েছে।
বিএনপির নেতৃস্থানীয় সূত্র মনে করেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দলে কোন বিরোধ দৃশ্যমান নয়। তবে রাজনীতি উত্তরাধিকারমুক্ত করার পরিকল্পনা কোন কোন রাজনৈতিক মহল এখনও পরিত্যাগ করেনি। আওয়ামী লীগে এই মনমানসিকতার নেতারা পুরোপুরি কোনঠাসা। বিএনপিতে অবস্থাটা তেমন নয়। সংস্কারবাদী এই নেতারাই বিভিন্ন পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তবে তারা এবং শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যতটা অনুরক্ত তারেক রহমানের উপর তারচেয়ে অনেক বেশি বিরক্ত। তারেক রহমানের নেতৃত্বকে তারা গোড়া থেকেই মেনে নিতে পারেননি। তারেক রহমানের প্রতি কর্মীদের ব্যাপক সমর্থনের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পান না তারা। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এই নেতাদের কাছে কাউন্সিল একটা সুযোগ হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে দলের ও বাইরের মহল বিশেষের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থেকেই তারা কাজ করছেন অভিন্ন স্বার্থে।
ডিসেম্বরে প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ফেব্রæয়ারি মার্চ পর্যন্ত গড়াতে পারে। কাউন্সিল যখনই হোক জেলা, উপজেলা, মহানগরের নেতা-কর্মীরা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহামনের নেতত্বের বাইরে কিছু ভাবেন না। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পর্যায়ে দলের অন্য কাউকে মেনে নেয়ার মানসিকতাও নেই তাদের। শীর্ষস্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কিছুসংখ্যক নেতারা গোপন ইচ্ছার বাইরে মাঠের নেতা-কর্মীদের প্রবল চাপের মুখে আগামী কাউন্সিলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে বহাল রাখার সম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু এ নিয়ে আইনগত জটিলতা রয়েছে। কাউন্সিলে নির্বাচিত কমিটির তালিকা বিধানমাফিক নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। জানা যায়, নির্বাচন কমিশন এই তালিকা থেকে আদালত কর্তৃক দÐিত ব্যক্তিদের বাদ দেয়ার জন্য বিএনপিকে চিঠি দেবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দÐিত কোন ব্যক্তির রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী হওয়া, সদস্য পদে থাকারও সুযোগ নেই। দÐ ভোগের পাঁচ বছর পরই উক্ত ব্যক্তি রাজনীতিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
জানা যায়,  বেগম খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতে দÐিত রয়েছেন একাধিক মামলায়। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের দÐাদেশ বহালই রাখেনি, একটি মামলার রায়ে নিম্ন আদালতে প্রদত্ত দÐের মেয়াদ দ্বিগুণ করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করাই খালেদা জিয়ার সামনে একমাত্র খোলা পথ। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সেপথে যাচ্ছেন না। সামনেও যাবেন না। কারণ আপিল বিভাগে দÐ বহাল রাখলে তা খালেদা জিয়ার রাজনীতির ইতি টানবে। এ ব্যাপারে সতর্ক থেকেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আইনগত পথে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক আন্দোলনের উপর জোর দিচ্ছেন। রাজনৈতিক ময়দানে আন্দোলন গড়ে তোলা যে কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী মহলেও ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।
কাউন্সিলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নেতৃত্ব রাখা কমিটির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশন থেকে কমিটি সংশোধনের জন্য বিএনপিকে বলা হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, এ ব্যাপারে বিএনপিকে নির্দিষ্ট সময়ও দেয়া হবে। বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের কার্যক্রমের প্রবল সমালোচনা করলেও আইনগতভাবে বিএনপিকে কঠিন এ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপির কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন জবাব সাপেক্ষে তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিএনপির ভাগ্য। আইনগতভাবে দÐিত হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সংগঠনের পদ থেকে বাদ দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বড় রকমের সংকটে পড়বে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে অব্যাহতভাবে জোর তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার চেয়ে তারেক রহমানের ব্যাপারেই সরকারি মহল অধিকতর ক্ষুব্ধ। বয়োবৃদ্ধ খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভ‚তিশীল মনোভাব থাকলেও তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নয়। তবে উভয়েই দÐিত হওয়ায় আইনগতভাবে তারা দুজনই রাজনীতির বাইরে থেকে যাবেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here