চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৮৭০

0
22

নিউজ ডেস্ক : দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণত দুর্যোগে আক্রান্তদের সহায়তা এবং দুর্যোগ ছড়িয়ে না পড়ার জন্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে, এই দুই ক্ষেত্রেই বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে সেসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে,। ঝাড়ু দেয়া বা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি করা হয়েছে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে। কিন্তু আমাদের জনস্বাস্থ্য অভিজ্ঞতা বলে যে মানুষকে সচেতন করলেই যে তারা সচেতন হয়ে তা পালন করবে, এমন কোন কথা নেই। সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ করে মানুষকে বাধ্য করা হলে তা কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গত কয়েক মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপ সামাল দিতে জুলাই মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকরভাবে করা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। ডাক্তার-নার্সরাও তো মানুষ, তাদেরও তো ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার রয়েছে। একজন চিকিৎসককে দিয়ে টানা ডিউটি না করিয়ে এই সমস্যা নিরসনে নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যেতে পারে। হাসপাতালে যখন অতিরিক্ত সংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং সেখানকার ডাক্তারদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে, তখন রোগীর চাপ সামাল দিতে আরো বেশি ডাক্তার নিয়োগ দেয়া উচিত। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজগুলোর জুনিয়র ডাক্তার, লেকচারার- যারা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন-তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে অনেকে মন্তব্য করেন । সেক্ষেত্রে কিছুদিন মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ রাখতে হবে। ১৯৮৮ ঢাকায় বন্যা পরিস্থিতি যখন খারাপ হয়, তখন বন্যার্তদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করে কলেজের লেকচারারদের জরুরি সেবায় নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ঐ সিদ্ধান্তের কারণে সেসময় অতিরিক্ত পাঁচশো থেকে সাতশো ডাক্তারের সেবা পাওয়া সম্ভব হয়েছিল।
চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৮৭০ শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৮৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৬৫০, ক্লিনিকে ৪০৩ ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮১৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এটিই চব্বিশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড। শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের চব্বিশ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৪৯ জন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৩৯৮ জন রোগী। ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৮০৪ জন। এছাড়া চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন ১৭ হাজার ৩৩৮ জন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here