ক্রিস্পার বিপ্লবে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ

0
11

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ : প্রাণির ডিএনএ (উঘঅ) কাটাছেঁড়া করতে বিজ্ঞানীদের মাঝে ক্রিস্পার (ঈজওঝচজ) একটি অত্যাধুনিক ও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রযুক্তি। প্রায় সাত বছর আগে এটি নতুন একটি জিন (এবহব) সম্পাদনা-প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। সেই থেকে এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আমেরিকা, চীন, এবং এশিয়া ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলো চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প এবং জীববিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত নতুন নতুন আবিষ্কারে মত্ত হয়েছে। এটিই ঈজওঝচজ জবাড়ষঁঃরড়হ বা ক্রিসস্পার বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ‘আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দ্য এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স’ এর বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন সায়েন্স এর ২ আগস্ট সংখ্যায় এ সংক্রান্ত তথ্যবহুল একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ডরঃয রঃং ঈজওঝচজ ৎবাড়ষঁঃরড়হ, ঈযরহধ নবপড়সবং ধ ড়িৎষফ ষবধফবৎ রহ মবহড়সব বফরঃরহম শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী মানবদেহের দুটি ডিএনএ পরিবর্তন ঘটিয়ে জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়া সম্ভব। এ গবেষণা নিয়ে গত বছর তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারবিশ্বে। চীনা বিজ্ঞানী হী জিয়ানকুই কর্তৃক এই ঘোষণার সময়ে অনেকেরই অজানা ছিল যে, ভেতরে ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরো অনেকে দেশেই ক্রিসপার পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।  ঐ প্রতিবেদনে গবেষণা কর্মে লিপ্ত দেশসমূহের তথ্য-চিত্রেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব রয়েছে।  এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসরত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি জৈব-স্বাস্থ্য গবেষণাগারে বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত ড. আশরাফ আহমেদ এনআরবি নিউজের সংবাদদাতার কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্তকালে বলেন, ‘মাত্র ২৮টি দেশের সাথে বাংলাদেশ নামটি দেখে আমার দুর্বল হৃদপিন্ডটি প্রবল ভাবে নেচে উঠলো! ক্রিস্পার প্রযুক্তি প্রয়োগে নতুন কিছু আবিষ্কার করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দেশগুলো ২০০০ পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব স্বীকৃতির জন্য দরখাস্ত করেছে। আমাদের নিকটবর্তী দেশ থাইল্যান্ডের নাম থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের নাম এতে নেই। মেধাস্বত্ব পাক বা না পাক, বাংলাদেশ যে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যেই নিজস্ব প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছে, আমার কাছে সেটিই উৎসাহব্যঞ্জক মনে হয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক এবং বাংলায় বিজ্ঞাণের বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন ড. আশরাফ। তিনি উল্লেখ করেন,  প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের কোন্ গবেষণাগার বা কোন্ বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানীদল কী আবিষ্কার করেছেন তা জানার উপায় নেই। নাম না জানা সেই বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানীদলকে সালাম, কৃতজ্ঞতা, ও সাধুবাদ জানাই।’
ড. আশরাফ আশা করছেন যে, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এবার ক্রিস্পার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেংগু, চিকুনগুনিয়া, এবং আরো অনেক দুরারোগ্য ভাইরাস বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই মশার বংশ বিস্তার নিরোধে আত্মনিযয়োগের কথা চিন্তা করতে পারেন। অবশ্য এজন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য প্রসারিত রাখতে হবে। ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের আলবার্ট আইনস্টাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ক্রিস্পার প্রযুক্তিতে এই মশার জিনোমে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here