৪০ লাখ চামড়া নষ্ট ও পাচার হয়েছে

0
151

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে এবার এক কোটিরও বেশি গবাদিপশু কোরবানী হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য এখনও সরকারের হাতে এসে পৌঁছেনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা পরিষদ জেলা প্রশাসন হয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ তথ্য আসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৭ লাখ হবে।
অভ্যন্তরীণভাবে গবাদি পশুর প্রয়োজনীয় যোগান ছিল এবারে ঈদে। খামারী এবং সাধারণ কৃষকরা এ চাহিদা পূরণ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, খামারীদের প্রতিরোধের মধ্যেও সীমান্ত পথে ভারত থেকে কমপক্ষে বার থেকে তের লাখ গরু এসেছে চোরাই পথে। বৈধপথেই এসেছে ছয় থেকে সাত লাখ গরু। অর্থাৎ প্রায় বিশ লাখ গরু ভারত থেকে এসেছে। ভারতীয় গরু যাতে বাজারে ঢুকতে না পারে সেজন্য খামারীরা নানাভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এবারে গরু নিয়ে সংকট হয়নি, ভয়াবহ সংকট হয়েছে গরুর চামড়া নিয়ে। সরকার বরাবরই গরু ছাগলের চামড়ার দাম ঈদের আগেই নির্ধারন করে দেয়। ট্যানারিমালিক, আড়তদার, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বৈঠক করে আগেভাগেই সম্ভাব্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী চামড়া রফতানীর সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন ঈদের দিন। এই ঘোষনাও চামড়ার বাজারে প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনেনি। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের মহানগরসমূহে এবং জেলা, উপজেলায় কোরবানীদাতারা গরু, ছাগলের ন্যূনতম মূল্য পাননি। লাখ টাকায় কেনা গরুর চামড়ার দাম ছিল আড়াইশ সর্বোচ্চ তিনশ টাকা। ৭০-৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়া দেড়শ, দুশ টাকা দেয়া হয়। ছাগলের চামড়ার দাম ৫০-৮০ টাকা। কোরবানী দাতাদের কাছে এ অবস্থাটা একেবারেই প্রত্যাশিত ছিলনা। অধিকাংশ কোরবানিদাতা অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি না করে চামড়া এতিমখানা, মাদ্রাসায় দান করে দেন। কোরবানিদাতারা এবং মাদ্রাসা, এতিমখানা কর্তৃপক্ষ চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি। বহু চামড়া পচে বিনষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা মহানগরসহ সারাদেশে কমপক্ষে বিশ লাখ চামড়া পচে গেছে। কারো মতে এই সংখ্যা পঁচিশ থেকে ত্রিশ লাখ হবে।
চামড়ার দাম না পাওয়ার এবং পচে বিনষ্ট হওয়ার ঘটনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের মানুষ দেশের অর্থনীতি এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ি, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলেছেন ট্যানারি মালিক, আড়তদাররা তাদের কাছ থেকে চামড়া নেননি। অর্থ সংকটের পাশাপাশি গতবারের মজুদ থাকার কথা বলেছেন ট্যানারি মালিকরা।  চামড়া ব্যবসায়িরা ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের পাওনা রয়েছেন ৩০ কোটি টাকা। এই বকেয়া না পাওয়ার কারনে তারা বাজার থেকে চামড়া কিনতে পারেননি। কোরবানি দাতাদের সাথে তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। চামড়া কেলেঙ্কারির পিছনে সিন্ডিকেট কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার এই সিন্ডিকেট খুজে বের করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অসমযোচিত সিদ্ধান্ত তাদের ব্যর্থতার দায় নেবে কে?
চামড়া নিয়ে এই ভয়াবহ সংকটজনক পরিস্থিতির সুযোগে চোরাই ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়েছে। কোরবানির চামড়া বরাবরই সীমান্ত পথে পাচার হয়। এবারে অতীতের রেকর্ড ছাপিয়ে যাচ্ছে। কমপক্ষে বিশ লাখ গরুর চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here