বাগেরহাটে জলবদ্ধতায় আড়াইশ মৎস্য ঘেরসহ প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যয়

0
22

বাগেরহাট প্রতিনিধি : ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের প্রায় আড়াইশ মৎস্য ঘেরসহ  প্লাবিত হয়েছে। জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। শুক্রবার (১৬ আগষ্ট) দিবাগত গভীর রাত থেকে শনিবার (১৭ আগষ্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত একটানা ৬ঘন্টার বিরামহীন বর্ষনে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার তিনটি পৌরসভা ও উপজেলাগুলোর  জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে সকাল থেকেই শহরের রাস্তা ঘাট ছিল ফাকা। জেলায় গড় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে পারছে না। কৃষিতেও প্রভাব পড়েছে এ ভারী বর্ষণে।
এদিকে, জেলার নি¤œাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কারনে জনদূর্ভোগ চরমে পৌচেছে। কোন কোন এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় দেখা দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ষাটগম্বুজ, ডেমা, রাধাবল্লব, কাশিমপুর ও বাগেরহাট পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাগেরহাট পৌরসভার খারদ্বার, বাসাবাটি, হাড়িখালী, নাগের বাজারসহ বেশ কয়েকটি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পৌরসভার সামনের সড়ক, শালতলা মোড়, মিঠাপুকুর পাড়ের সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
বাগেরহাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম শিপন বলেন, ঘুম থেকে উঠেই ড্রেনের পানি নিস্কাশনের জন্য নিজেই কাজ শুরু করি। পৌরসভার পক্ষ থেকেও অনেক কর্মী এ কাজে নিয়োজিত ছিল। আশা করি বৃষ্টি কমলে দ্রæত পানির ভোগান্তি থেকে মুক্ত পাবে মানুষ।
বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাকী তালুকদার বলেন, বাগেরহাট সদর আসনের এমপি শেখ তন্ময় বাগেরহাট পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরাশনে একটি প্রকল্প পাশ করেছেন। ইতি মধ্যে সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আগামীতে পৌরবাসি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুশফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তায় হাটু পানির কারনে আমাদের এলাকার জনসাধারনের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। বাড়ী-ঘরে পানি উঠে গেছে। এক প্রকার পানি বন্দি হয়ে পড়েছি।
চিতলমারী এলাকার ঘের ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার ১০ বিঘার ঘেরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ঘের ভেসে গেছে। এতে আমার প্রায় ৫লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট সদর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, দুই থেকে আড়াইশ ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সহ¯্রাধিক মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। আমরা মৎস্য চাষীদের নেট দিয়ে নিজ নিজ ঘের নিরাপদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাগেরহাটে বছরের সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে কিছু পানের বরাজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রæত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here